Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ছোটখাটো অভিযুক্তদের নিয়ে নয়, দুর্নীতির ‘মাথা’ ধরতে হবে, এমনই দাবি উঠেছে সুমিত রায়কে ঘিরে বিতর্কে বার্তা দিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, দীর্ঘদিন পুলিশের নাগালের বাইরে থাকা এবং পরে তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর। সমালোচকদের প্রশ্ন, তিন মাস ধরে যদি তাঁকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে তিনি কোথায় ছিলেন? পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়নি, নাকি খুঁজতে চায়নি?

‘ল্যাজ নয়, মাথাকে ধরতে হবে’ (Sujan Chakraborty)
বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দুর্নীতি ও তোলাবাজির মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ছোটখাটো অভিযুক্তদের নিয়ে তদন্ত করে আসল মাথাদের আড়ালে রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। চোর, প্রতারক ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি তাঁদের পিছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিন মাস কোথায় ছিলেন সুমিত? (Sujan Chakraborty)
সুমিত রায়কে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও তিনি দীর্ঘ সময় পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। পরে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন? কেন তাঁকে আগে খুঁজে পাওয়া গেল না?

তৃণমূল আমলের ‘সেটিং’ নিয়ে তোপ (Sujan Chakraborty)
বক্তব্যে আগের সরকারের আমলে অভিযুক্ত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্ত ধীর হয়ে যেত এবং অভিযুক্তরা নানা সুবিধা পেতেন। ‘সেটিং’-এর অভিযোগও সামনে আনা হয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ জরুরি।
তৃণমূল থেকে বিজেপি, নতুন সমীকরণ? (Sujan Chakraborty)
সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে দলবদল নিয়ে। অভিযোগ, তৃণমূলের একাংশের প্রাক্তন নেতা এখন বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে অতীতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দাবি এবং সেই অতীতের নেতাদের নিয়েই বর্তমান রাজনীতি—এই দুইয়ের মধ্যে বিরোধ দেখছেন সমালোচকেরা।

আরও পড়ুন: Kolkata Airport: বিমানের ককপিটে লেজারের ঝলক, আতঙ্কে পাইলট
মানুষের আস্থা ফেরাবে কীভাবে?
দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপই এখন মানুষের প্রত্যাশা। তদন্তে যদি সত্যিই কোনও অপরাধের প্রমাণ মেলে, তাহলে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শেষ পর্যন্ত সুমিত-সহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হয় এবং প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, তার দিকেই নজর থাকবে।



