Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চোখরাঙানি উপেক্ষা করে সমাজের বেড়াজাল ভেঙেচ্ছেন সুন্দরবনের দুই তরুণী, রিয়া সর্দার ও রাখি নস্কর। মুখে কিছু না বলেও তাঁরা যেন কাজে প্রমাণ দিলেন— ‘স্কাই ইজ দ্য লিমিট…..’। সেই রিয়া-রাখীকে এবার শুভেচ্ছা জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রামেশ্বরপুর গাববেড়িয়ার এই দুই বঙ্গকন্যা প্রায় বিনা বাধায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মন্দিরে সাতপাক ঘুরে, আশীর্বাদে স্নাত হয়ে শুরু করেছেন তাঁদের নতুন জীবনযাত্রা। সমাজের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে তাঁদের এই সাহসিক সিদ্ধান্তে গর্বিত গোটা সুন্দরবন।
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই নবদম্পতির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। সোমবার সকালে তাঁর নির্দেশে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার নবদম্পতির সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেন। সেখানে ফের মালাবদল করেন রিয়া ও রাখী। অভিষেকবাবু সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও ফোনে দু’জনকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের জন্য আন্তরিক শুভকামনা পাঠান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেকের দীর্ঘ পোস্ট(Abhishek Banerjee)
পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee) একটি দীর্ঘ পোস্টে লেখেন— “সামাজিক বেড়াজাল ছিন্ন করে সুন্দরবনের দুই তরুণী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, যা বাংলা তথা দেশের কাছে দৃষ্টান্তস্বরূপ উদাহরণ — স্বাধীন ভারতের স্বাধীন মানসিকতার, মানবিকতার, মুক্ত চিন্তা ভাবনার ও সাহসিকতার প্রতীক।” তিনি আরও লেখেন, “সংকীর্ণতার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বাংলার কাছে গর্বের। পরমেশ্বরের আশীর্বাদ বর্ষিত হোক তাঁদের জীবনে, রঙিন হয়ে উঠুক আগামীর পথ।” অভিষেকের বার্তা স্পষ্ট — বাংলা পথ দেখায়, সাহস ও ভালোবাসার জোরেই সমাজের অচলায়তন ভাঙা সম্ভব।
নৃত্যের সূত্রেই পরিচয়, প্রেম থেকে সংসার
রিয়া ও রাখি — দু’জনেই পেশায় নৃত্যশিল্পী। এক বান্ধবীর মাধ্যমে আলাপ, তারপর ফোনালাপ, বন্ধুত্ব এবং ধীরে ধীরে ভালোবাসা। একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। যদিও সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল, কিন্তু তাতে দমে যাননি কেউ। প্রথমে বিহারের এক মন্দিরে ভগবানকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেন দু’জনে। কিছুদিন পর রাখির বাড়িতে কিছু সমস্যার কারণে রিয়া নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের সম্মতি নিয়ে আবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনার রামেশ্বরপুরে স্থানীয় এক ক্লাবের সহায়তায় মন্দিরে তাঁদের বিয়ে হয় — যথাযথ সামাজিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Green Line: আজ রাতে মেট্রো ধরবেন ভাবছেন? এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছেছেন তো?
গ্রামজুড়ে উৎসবের আবহ
রিয়া ও রাখীর বিয়েকে ঘিরে এখন গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ। স্থানীয়রা এই নবদম্পতির সাহস, ভালোবাসা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করছেন। তাঁদের গল্প এখন সুন্দরবনের গর্ব, আর সমাজের কাছে এক নতুন বার্তা — ভালোবাসা কোনো ছক মানে না।


