Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: তদন্তে সহযোগিতা করছেন না অভিষেক (Abhishek Banerjee)! আদালতে অভিযোগ পুলিশের। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের মামলায় দ্রুত শুনানির আর্জি অভিষেকের। ‘আপনাকে তো রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। তারপরেও কেন আপনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না? তদন্তকারীদের কাছে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিক তিনি’- মন্তব্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর। মামলা শুক্রবার পর্যন্ত পিছলেও, তৃণমূল সাংসদকে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।
হাইকোর্টে মামলা (Abhishek Banerjee)
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। উস্কানি ও প্ররোচনামূলক মন্তব্যের অভিযোগে কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হয়। তারপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। তাঁকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।
তদন্ত চলাকালীন হস্তক্ষেপ নয় (Abhishek Banerjee)
তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি অভিষেকের কণ্ঠস্বরের (Abhishek Banerjee) নমুনা সংগ্রহের আবেদন করল, তাতে সম্মতি জানিয়ে নির্দেশ দেয় বিধাননগর আদালত।কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। বিচারপতি কৌশিক চন্দ মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও তাঁর এজলাসে এই মামলার শুনানি না হওয়ায় মামলাটি ওঠে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। সেই মামলায় বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘তদন্তকারী আধিকারিক যদি মনে করেন ভয়েস স্যাম্পেল দরকার, তাহলে কি আদালত না বলতে পারে? তদন্ত যতক্ষণ চলছে, ততক্ষণ আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’
দ্রুত শুনানির আর্জি
এরপর এই মামলায় বারবার দ্রুত শুনানির আর্জি জানালেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ক্রমতালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে। মঙ্গলবার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ মামলায় দ্রুত শুনানি চেয়ে আবারও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। সেই মামলাতেই অভিষেকের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলল রাজ্য। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ ছিল তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু আদালত কণ্ঠস্বর পরীক্ষার নির্দেশ দিলেও তিনি আসছেন না। তদন্তেও কোনও সহযোগিতা করছেন না।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য তখন অভিষেকের আইনজীবীদের প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে তো রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। তারপরেও কেন আপনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না? তদন্তকারীদের কাছে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিক তিনি।’ রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, ‘রক্ষাকবচ যদি দেওয়া হয়, তাহলে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট যেতে বলার পরও তিনি মামলা করছেন। আমরা মামলাকারীর কথাতে বিশ্বাস করতে পারিনা, এটা কার কণ্ঠ।’
অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অয়ন ভট্টাচার্য্য আদালতে পাল্টা বলেন, ‘কণ্ঠস্বরের আদৌ কি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? আমরা নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করছি। এটা তাঁর কণ্ঠস্বর আমার মক্কেল স্বীকার করছেন। তার পরেও কেন ইই নির্দেশ?’ তখন রাজ্যের তরফে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাজ্য দাবি করে, অভিষেকের কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই কারণেই নমুনা সংগ্রহ করতে চায় পুলিশ। আদালত তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছে। কিন্তু সহযোগিতা করা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: BJP MLA Dilip Ghosh: তৃণমূল তোমার বাপ আর বিজেপি তোমার সৎ বাপ: দিলীপ ঘোষ
এরপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য মামলা আগামী শুক্রবার পর্যন্ত পিছিয়ে দেন। ওই দিন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। তবে মামলা পিছলেও, অভিষেককে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।


