Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাজ করতে করতে, অবসরে কিংবা রান্নাঘরে খুন্তি নাড়তে নাড়তেও গান শোনা আজকের দিনে বহু মানুষের কাছেই এটি এক স্বাভাবিক অভ্যাস (Airpods Cause)। অনেকেই বিশ্বাস করেন, সঙ্গীত মন ভালো রাখে, মানসিক চাপ কমায়, এমনকি ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সের মতো স্নায়বিক রোগের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ব্লু টুথ এয়ারবাড বা এয়ারপড এখন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একাধিক দাবি দীর্ঘ সময় ব্লু টুথ এয়ারবাড ব্যবহার করলে নাকি মস্তিষ্কের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ব্লু টুথ এয়ারবাড কি সত্যিই এতটা ক্ষতিকর?
রেডিয়েশন নিয়ে ভয় কোথা থেকে এল? (Airpods Cause)
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, মস্তিষ্কের খুব কাছে এমন কোনও ডিভাইস দীর্ঘ সময় ধরে রাখা উচিত নয়, যার সঙ্গে রেডিয়েশনের সম্পর্ক রয়েছে। ব্লু টুথ এয়ারপড, মোবাইল ফোন বা ওয়্যারলেস হেডসেট সবকিছু থেকেই নির্গত হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন । এই জায়গাতেই সাধারণ মানুষের আতঙ্ক। কেউ কেউ এমন দাবিও করেছেন যে, এয়ারপড নাকি “মিনি মাইক্রোওয়েভ”-এর মতো কাজ করে। নিউরোসার্জেন জয় জগন্নাথনের মতে, “মস্তিষ্কের খুব কাছে থাকায় এয়ারপড সম্ভাব্য ভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।” এমন মন্তব্য আরও বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে। তবে এখানেই আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এই রেডিয়েশন কি আদৌ ক্যান্সার তৈরি করার মতো শক্তিশালী?
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড আসলে কী? (Airpods Cause)
EMF বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড হল এমন এক ধরনের শক্তিক্ষেত্র, যা যে কোনও বৈদ্যুতিক বা ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের চারপাশে তৈরি হয়। বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই এই ফিল্ড তৈরি হয়। তবে সব EMF এক রকম নয়। বিজ্ঞানীরা সাধারণত একে দুই ভাগে ভাগ করেন।
১. নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন (Airpods Cause)
নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন হল কম ফ্রিকোয়েন্সির রেডিয়েশন। মোবাইল ফোন, ব্লু টুথ এয়ারবাড, ওয়াই-ফাই রাউটার এই সব ডিভাইস থেকেই এই ধরনের রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই রেডিয়েশনের শক্তি এতটাই কম যে তা মানবদেহের কোষে থাকা ইলেকট্রনকে আলাদা করতে পারে না। অর্থাৎ, কোষে আয়নাইজেশন ঘটে না। ফলে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের রেডিয়েশন সাধারণত শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।
২. আয়োনাইজিং রেডিয়েশন (Airpods Cause)
অন্য দিকে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন অনেক বেশি শক্তিশালী। এক্স-রে, গামা-রে কিংবা পারমাণবিক বিকিরণ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এই রেডিয়েশন কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্লু টুথ এয়ারবাড বা মোবাইল ফোন থেকে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন নির্গত হয় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে? (Airpods Cause)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, গত প্রায় ২০ বছর ধরে মোবাইল ফোন ও ওয়্যারলেস ডিভাইসের রেডিয়েশন নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নিশ্চিত ভাবে বলে যে মোবাইল ফোন বা ব্লু টুথ এয়ারবাড ব্যবহারে মানুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট-এর কিছু গবেষণায় ব্রেন টিউমারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, সেগুলির গবেষণাগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বড় আকারের, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় এখনও পর্যন্ত মোবাইল ফোন বা এয়ারপডের সঙ্গে ক্যান্সারের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
আরও পড়ুন: Folk Festival: ব্রাহ্মণ্য শিবের বাইরে বাংলার লোকশিবের আলাদা পরিচয়
রেডিয়েশনের মাত্রা কি নিরাপদ সীমার মধ্যে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু টুথ ডিভাইস থেকে যে পরিমাণ রেডিয়েশন নির্গত হয়, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনেক নিচে। বরং মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় যে রেডিয়েশন শরীর শোষণ করে, তার তুলনায় ব্লু টুথ এয়ারবাডের শক্তি অনেক কম। এই কারণেই বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বলা যায়, সাধারণ ব্যবহারে এয়ারপড বা ব্লু টুথ হেডসেট নিরাপদ।



