Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ অ্যালঝেইমার্স ডিজিজ (Alxheimers Medicine)। বহু দশক ধরে এই রোগের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। মূল সমস্যার সমাধান নয়, বরং স্মৃতিলোপের গতি কমানোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে মার্কিন সংস্থা ইলাই লিলির তৈরি যুগান্তকারী ওষুধ ‘ডোনানিম্যাব’। ভারতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও ওষুধটিকে সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে, যা অ্যালঝেইমার্স চিকিৎসায় একটি বড় অগ্রগতি।

কীভাবে কাজ করে এই নতুন ওষুধ? (Alxheimers Medicine)
অ্যালঝেইমার্সের মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় মস্তিষ্কে বিটা-অ্যামাইলয়েড ও টাউ প্রোটিন জমা হওয়া। ডোনানিম্যাব একটি মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, যার প্রধান কাজ মস্তিষ্কে জমে থাকা এই ক্ষতিকর অ্যামাইলয়েড প্লাককে সরিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ, এটি রোগের মূল উৎসকে আঘাত করে, যা একে চিকিৎসাক্ষেত্রে সত্যিই যুগান্তকারী করে তুলেছে।
অনুমোদনের পথচলা (Alxheimers Medicine)
ডোনানিম্যাব আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এফডিএ অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার বিস্তৃত মূল্যায়ন শেষে আমেরিকায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের সিডিএসসিওও সম্প্রতি একই অনুমোদন প্রদান করেছে। ইলাই লিলি জানিয়েছে, ‘কিনসুলা’ ব্র্যান্ডনামে ওষুধটি ২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় বাজারে আসতে পারে।

রোগীদের জন্য আশার সঞ্চার (Alxheimers Medicine)
ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, ডোনানিম্যাব প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যালঝেইমার্স রোগীদের কগনিটিভ ডিটোরিয়েরেশন (মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার অবনতি) প্রায় ৩৫% কমাতে সক্ষম। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১,৭৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক। ৭৬ সপ্তাহের ব্যবধানে এই উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। ওষুধটি প্রতি চার সপ্তাহে একবার ইন্ট্রাভেনাস ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয় প্রথম ৩ ডোজ: ৭০০ mg পরবর্তী প্রতিটি ডোজ: ১৪০০ mg তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হলে ওষুধটি সর্বোচ্চ কার্যকর। ডিমেনশিয়া যদি অনেকটা এগিয়ে যায়, তবে এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
যে ঝুঁকিগুলো জানা জরুরি (Alxheimers Medicine)
যদিও ওষুধটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, তবুও এর কিছু গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যামাইলয়েড রিলেটেড ইমেজিং অ্যাবনর্মালিটি, মস্তিষ্কে সাময়িক ফোলা: ২৪% রোগীর ক্ষেত্রে, মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ: ১৯.৭% রোগীর ক্ষেত্রে, ওষুধ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঘটনা: ৩টি রিপোর্ট, তবুও, ঝুঁকিগুলো সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা মনে করছেন এই ওষুধ ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এক বিশাল অগ্রগতি।

আরও পড়ুন: Nepal Protest: দেশেই আছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা শুধু নির্বাচনের…
ভারতে কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত দ্রুত এক প্রবীণ জনসংখ্যার দেশে পরিণত হচ্ছে, ২০১১ সালে ৬০ বছরের বেশি মানুষ: ১০.৩ কোটি ২০৫০ সালে এই সংখ্যা হবে ৩১.৯ কোটি, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৩ লক্ষ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা পৌঁছতে পারে ১ কোটি ৪০ লক্ষে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যালঝেইমার্স চিকিৎসায় একটি কার্যকর ওষুধের আগমন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



