Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আমাদের (Dharmendra Death) ছেড়ে চলে গেলেন ৮৯ বছর বয়সে। সোমবার সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরিবারের তৎপরতায় অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছে যায় তাঁর বাড়ির সামনে। মুম্বইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশানে ইতিমধ্যেই উপস্থিত হয়েছেন স্ত্রী হেমা মালিনী, মেয়ে এষা দেওল, অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেক বচ্চন সহ আরও অনেক বলিউড তারকা। পরিবারের অনুরোধে ধর্মেন্দ্র ১২ নভেম্বর ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন এবং সেই সময় থেকে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও চিকিৎসায় তিনি কিছুটা সাড়া দিচ্ছিলেন, সোমবার দুঃসংবাদ আসে-দীর্ঘ অসুস্থতার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ধর্মেন্দ্রের জীবনযাত্রা এবং চলচ্চিত্র (Dharmendra Death)
ধর্মেন্দ্রের জীবনযাত্রা এবং চলচ্চিত্র যাত্রা এক অনন্য (Dharmendra Death) গল্প। ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্জাবের লুধিয়ানার নাসরালিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতার নাম কেওয়াল কৃষাণ এবং মাতার নাম সৎওয়ান্ত কৌর। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার প্রতি আগ্রহী ধর্মেন্দ্র ১৯৫২ সালে স্কুল শেষ করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন প্রকাশ কৌরকে, এবং ১৯৫৭ সালে প্রথম সন্তান সানির জন্ম হয়। ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয় সন্তান বিজয় সিন দেওল, অর্থাৎ ববি, জন্মগ্রহণ করেন।

সিনেমার প্রতি আগ্রহ (Dharmendra Death)
ধর্মেন্দ্রর সিনেমার প্রতি আগ্রহ তাকে ফিল্মফেয়ার (Dharmendra Death) ম্যাগাজিনের নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে সাহায্য করে। ১৯৬০ সালে তিনি মুম্বই এসে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রথমবারের মতো পদার্পণ করেন। যদিও প্রথম সিনেমা বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শোলো অউর শবনম’ এবং ১৯৬২ সালে ‘অনপড়’ তাঁকে একজন স্বীকৃত অভিনেতা হিসেবে পরিচিত করে। ১৯৬৩ সালে ‘বন্দিনী’ তাঁর সাফল্যের পথকে মজবুত করে এবং এই সিনেমা জাতীয় পুরস্কারও পায়।
হেমা মালিনীর সঙ্গে পরিচয়
১৯৭০-এর দশকে ধর্মেন্দ্র একে একে হিট সিনেমার মাধ্যমে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘জীবন মৃত্যু’ সুপারহিট হয়। ১৯৭১ সালে ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’ মুক্তি পেয়ে তাঁকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিত করে। ১৯৭৫ সালে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘শোলে’ এবং ‘চুপকে চুমকে’ সিনেমা ইতিহাস গড়ে।

ধর্মেন্দ্র বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের ভিন্নরূপে দর্শকের সামনে আসতে থাকেন। ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’, ‘কিস কিস কি কিসমত’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘জনি গদ্দার’ এবং ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ প্রমাণ করে তিনি সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি ১৯৯০ সালে ‘ঘায়েল’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার, ১৯৯১ সালে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার এবং ২০১২ সালে পদ্মভূষণ সম্মান লাভ করেন। ধর্মেন্দ্র শুধুমাত্র একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি, যাঁর অবদান চিরকাল মনে থাকবে।


