Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যুবভারতী ক্রীড়াক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে (Aroop Biswas Resigns)। মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষের একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে প্রথম জানা যায়, যুবভারতী কাণ্ডের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান অরূপ বিশ্বাস। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের কুণাল ঘোষের পোস্টেই স্পষ্ট হয় অরূপ বিশ্বাসের আর্জিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব থেকে আপাতত অব্যাহতি দিয়েছেন। তদন্ত চলাকালীন সময়ে ক্রীড়াদপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। বরং পদত্যাগপত্র ঘিরে তৈরি হওয়া ভাষাগত বিতর্ক গোটা ঘটনাকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
ক্রীড়া দপ্তর ছাড়লেও মন্ত্রিসভায় বহাল (Aroop Biswas Resigns)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অরূপ বিশ্বাস শুধু ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর থেকেই অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বে বহাল থাকছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেই থাকছেন। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ পদত্যাগ নয়, বরং তদন্তকালীন নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে একটি দপ্তরের কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। তবু প্রশ্ন উঠছে এই নৈতিকতার জায়গাটিই কি পরে বানানের ভুলে ঢাকা পড়ে গেল?
চিঠির নস্টালজিয়া ও ভাষার মর্যাদা কোথায়! (Aroop Biswas Resigns)
ই-মেল, হোয়াটসঅ্যাপ আর ডিজিটাল নোটের যুগে সরকারি চিঠি মানেই আলাদা গুরুত্ব। বিশেষ করে পদত্যাগপত্রের মতো একটি নথি শুধু প্রশাসনিক নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বও বহন করে। সেই চিঠিতে শব্দের শুদ্ধতা, ভাষার ভারসাম্য এবং বানানের যথার্থতা তাই অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সেই চিঠির প্রতিটি লাইনে যদি একাধিক ভুল বানান চোখে পড়ে, তাহলে আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং গাম্ভীর্য সব কিছুই যেন প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়।

সব মন্ত্রী পণ্ডিত নন, কিন্তু… (Aroop Biswas Resigns)
বাস্তবতা হল, সব মন্ত্রী বিদ্বান হবেন এমন প্রত্যাশা অযৌক্তিক। প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগ এই গুণগুলিই তাঁদের মূল শক্তি। কিন্তু তাই বলে ন্যূনতম বানানজ্ঞান, সাধারণ ব্যাকরণ কিংবা নিজের পদবির সঠিক নাম লেখার দায় নেই এমনটা কি গ্রহণযোগ্য? এখানে কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখার কথা বলছে না, কিংবা শশী থারুরের মতো শব্দবিলাসী হওয়ার দাবি তুলছে না। প্রশ্নটা খুব সাধারণ একজন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী কি নিজের পদটির নাম ঠিকঠাক লিখতে পারবেন না?
‘ক্রীড়ামন্ত্রী’ না ‘ক্রিয়ামন্ত্রী’ (Aroop Biswas Resigns)
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে পদত্যাগপত্রে ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দ নিয়ে। সংস্কৃতির বক্ষলগ্ন ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী নিজের চিঠিতেই নিজের পদাধিকার উল্লেখ করেছেন ‘ক্রিয়ামন্ত্রী’ হিসেবে। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র ট্রল ও ব্যঙ্গ। যে ভুল বানানগুলো নিয়ে আলোচনা, ক্রীড়াঙ্গনে → ক্রিয়াঞ্জনে , পরিপ্রেক্ষিতে → পরিপেক্ষিতে, ক্রীড়ামন্ত্রী → ক্রিয়ামন্ত্রী , অব্যাহতি → অব্যহতি; এই ভুলগুলো সাধারণ টাইপিং ত্রুটি হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন, কারণ এটি একটি সরকারি নথি, যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
আরও পড়ুন: Aroop Biswas Resigns: যুবভারতী কেলেঙ্কারি বিতর্ক, ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা অরূপের!
সমাজ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ও বিদ্রুপ
চিঠির ছবি সামনে আসতেই সমাজ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনিক মান নিয়ে, কেউ আবার কটাক্ষ করে লিখেছেন “ক্রীড়ামন্ত্রী নন, উনি তো সত্যিই ‘ক্রিয়ামন্ত্রী’।” মেসি-সংক্রান্ত যুবভারতী কাণ্ডে যেখানে প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেখানে এই বানান বিভ্রাট সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। অনেকের মতে, ভাষার এই অবহেলা আসলে শাসক শ্রেণির শিক্ষাগত সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধের অভাবকেই সামনে এনে দিয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, মেসি কাণ্ডে পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে বাংলাভাষায় যেন এক ‘নতুন বানানের সংযোজন’ করলেন স্বয়ং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মহাশয়।



