Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জরাপু রামমোহন নাইডু বলেন (Aviation Minister On Crash Report), “আমরা পাইলটদের কল্যাণ ও সুস্থতারও যত্ন নিই। তাই আসুন আমরা এই পর্যায়ে কোনও সিদ্ধান্তে না গিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করি।”
প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ, তদন্ত এখনও চলছে (Aviation Minister On Crash Report)
আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের দুর্ঘটনা নিয়ে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) রিপোর্ট এখনও প্রাথমিক স্তরের (Aviation Minister On Crash Report)। তাই এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলে জানালেন নাগরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রাম মোহন নাইডু। শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি মনে করি না এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। আমাদের দেশের পাইলট ও ক্রুদের নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। ওরাই নাগরিক বিমান পরিবহনের মেরুদণ্ড। আমরা ওদের মঙ্গল ও কল্যাণের দিকেও নজর দিই। তাই এখনই কিছু বলা উচিত হবে না, চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করাই ভাল।”
জ্বালানি সুইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিকেই ইঙ্গিত (Aviation Minister On Crash Report)
AAIB-এর প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, লন্ডনগামী AI-171 বিমানের দুই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহকারী সুইচ হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় (Aviation Minister On Crash Report)। এরপর পাইলটদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়, আর তার কয়েক সেকেন্ড পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের গতি যখন ১৮০ নট (IAS) ছুঁয়েছিল, তখনই ইঞ্জিন ১ ও ইঞ্জিন ২-এর ফুয়েল কাট-অফ সুইচ একে একে বন্ধ হয়ে যায় মাত্র এক সেকেন্ডের ব্যবধানে। ককপিটে রেকর্ড হওয়া কথোপকথনে শোনা যায়, এক পাইলট অপরকে জিজ্ঞেস করছেন কেন তিনি জ্বালানি কেটে দিলেন। উত্তরে আরেকজন বলেন, তিনি তা করেননি।
চূড়ান্ত রিপোর্টের আগে মন্তব্য অনুচিত: মন্ত্রী
মন্ত্রী নাইডু বলেন, “এখন মন্তব্য করা খুবই সময়ের আগেই হয়ে যাবে। অনেক টেকনিক্যাল দিক রয়েছে। তাই আরও অপেক্ষা করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মৃতদের পরিবারের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি। যেভাবে পারি, সাহায্য করছি।” তিনি AAIB-এর তদন্তের প্রশংসা করে বলেন, “এই প্রথম ভারতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার ও ডেটা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আমি এই স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানাই।”
আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই তদন্ত
মন্ত্রী জানান, তদন্তে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে। ব্ল্যাক বক্স, যা বিমানের ওড়ার সময়ের সব তথ্য রেকর্ড করে, সেটি ভারতের মধ্যেই রয়েছে। গত মাসে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল জানিয়েছিলেন, “ব্ল্যাক বক্স বিদেশে যাবে না। AAIB-এর হেফাজতেই আছে, এবং তদন্ত ভারতে হবে।”
দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মর্মান্তিক তথ্য
গত ১২ জুন, ওড়ার কিছু সেকেন্ড পরেই AI-171 বিমানটি মেঘানিনগরের BJ মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের আবাসনের উপর ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তেই তাতে আগুন ধরে যায়। বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র একজন বেঁচে ছিলেন। বাকি যাত্রীরা এবং নিচে থাকা অনেকেই নিহত হন। মৃতদের মধ্যে ছিলেন ওই মেডিকেল কলেজের ৯ জন ছাত্র এবং তাঁদের আত্মীয়স্বজনও। AAIB-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি পরীক্ষার জন্য DGCA-র ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল এবং তা মানসম্পন্ন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: Emergency: ‘বিজেপির তোতাপাখি!’ জরুরি অবস্থার সমালোচনা শশীর, বিড়ম্বনায় কংগ্রেস
এখনই সিদ্ধান্ত নয়, চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা জরুরি
সার্বিকভাবে মন্ত্রী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এখনই কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছে, AAIB-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


