Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয় (Calcutta High Court)। এই মসজিদের শিলান্যাস ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবির। বিষয়টি সামনে আসতেই একাংশের তরফে অভিযোগ ওঠে, সরকারি জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে এবং তা আইন ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মসজিদ নির্মাণের উপর স্থগিতাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়।

মামলাকারীর যুক্তি (Calcutta High Court)
কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে গেলে রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন। এই মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ও কার্যকলাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। যদি সরকারি জমিতে এই নির্মাণ হয়ে থাকে, তবে তা অবৈধ এবং অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত। এই যুক্তিগুলির ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ (Calcutta High Court)
শুনানির সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানান, যে জমিতে মসজিদ নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, সেটি সরকারি জমি নয়। বরং সেটি একটি ট্রাস্টের মালিকানাধীন জমি। ফলে সরকারি জমি দখল বা সরকারি অনুমতির প্রশ্ন এখানে প্রযোজ্য নয়। আদালত আরও জানায়, মামলাটি যেভাবে দায়ের করা হয়েছে, তাতে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ আবেদন হওয়ায় এই মামলাকে বিবেচনার আওতায় আনা সম্ভব নয়।
আইনি ফলাফল (Calcutta High Court)
এই সমস্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে মসজিদ নির্মাণের উপর কোনও স্থগিতাদেশও জারি করা হয়নি। আদালত প্রথম শুনানিতেই স্পষ্ট করে দেয় যে, এই মুহূর্তে তাদের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: CM Mamata Banerjee: ব্যবসায়ীদের সমস্যা-সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর
আদালত হস্তক্ষেপ করবে না!
এই রায়ের ফলে আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই ইস্যুতে হাইকোর্টের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে, তাও যদি তা আইনগতভাবে দুর্বল হয়, তবে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।



