Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির (Bangladesh Unrest) মৃত্যুকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় বিক্ষোভ। জনরোষের হাত থেকে রেহাই পাননি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও। একের পর এক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে।
মুহূর্তের মধ্যেই আগুন (Bangladesh Unrest)
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় (Bangladesh Unrest) অবস্থিত ইংরেজি দৈনিক ‘ডেলি স্টার’-এর প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। ভাঙচুরের পর বহুতল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক ও কর্মী। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিশাল ক্রেনের সাহায্যে একে একে সাংবাদিকদের নামানো হয়। সেই নাটকীয় উদ্ধারের দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
আতঙ্কের পরিবেশ (Bangladesh Unrest)
একই রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বাংলা (Bangladesh Unrest) দৈনিক ‘প্রথম আলো’-র অফিসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা ভিতরে ঢুকে কাগজপত্র, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করে দেয়। আতঙ্কের পরিবেশে রাত কাটান সংবাদকর্মীরা। ‘ডেলি স্টার’-এর এক সাংবাদিক জাইমা ইসলাম সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, ঘন ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল এবং তিনি ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। পরে দমকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আততায়ীদের গুলিতে খুন
এই অশান্তির মধ্যেই বৃহস্পতিবার খুলনায় আততায়ীদের গুলিতে খুন হন ইমদাদুল হক মিলন নামে এক সাংবাদিক। তিনি ‘বর্তমান সময়’ পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন এবং শলুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। উল্লেখ্য, নামের মিল থাকলেও তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন নন। এই হত্যাকাণ্ড সাংবাদিক সমাজে শোক ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-এর সম্পাদক নুরুল কবির। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁর উপরও চড়াও হয়। চুল ধরে মারধর করার ঘটনাও ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: Bangladesh: হাদির মৃত্যুতে উত্তাল বাংলাদেশ, চরম আঘাত সংবাদমাধ্যমের উপর
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকার শাহবাগে প্রথমে জমায়েত শুরু হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে শনিবার ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।


