Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু যোগীরাজ্যে। উত্তরপ্রদেশের রেললাইনের পাশে উদ্ধার হয়েছে বীরভূম জেলার দামোদরপুর গ্রামের তরুণ পরিযায়ী শ্রমিক প্রতীক হেমরমের মৃতদেহ (Bengal Migrant Worker death)। পরিবারের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে চেন্নাইয়ে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যরা জানতেন, সে চেন্নাইতে একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই উত্তরপ্রদেশে রেললাইনের ধারে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতীকের পরিবার জানিয়েছেন, বর্তমানে তার দেহ মধ্যপ্রদেশে রয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় মৃতদেহটি বীরভূমে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কীভাবে ও কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। পরিবার দাবি করেছে, যদি এই মৃত্যুর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক — এই দাবি পরিবারের সদস্যরা তুলেছেন। এই ঘটনায় সরব হয়েছে তৃণমূলও।
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ তৃণমূলের (Bengal Migrant Worker death)
এই ঘটনার পর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি পোস্টে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে বাঙালি ও আদিবাসী শ্রমিকদের ওপর নিপীড়ন বর্তমানে রাজনীতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ শাসনে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার এখন শুধু আটকানো কিংবা বিতাড়িত করেই থেমে নেই, এখন তা হত্যার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।”
আরও পড়ুন:Subhendu Adhikari: ফ্ল্যাটে ঢুকে হামলা! সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিকের উপর আক্রমণ কেন?
তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক বাঙালি আদিবাসী পরিযায়ী শ্রমিককে দিল্লি-কানপুর রেললাইনে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে, যা গোবিন্দনগর থানার কাছেই ঘটেছে (Bengal Migrant Worker death)। তৃণমূল দাবি করেছে, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন বিজেপির পক্ষ থেকে নির্যাতিত বাঙালিদের কোনো রকম সহায়তা না দেওয়া হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বিজেপি এখন এমন এক মিশনে নেমেছে, যাতে গোটা দেশেই বাঙালিদের বসবাসের অযোগ্য করে তোলা যায়।”
তৃণমূল আরও দাবি করেছে, “যারা এই দেশের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন, আজ তাদেরই খুন করা হচ্ছে, বিতাড়িত করা হচ্ছে।” দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি এই ঘটনা বাঙালি আত্মসম্মানবোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিবেকে না নাড়া দেয়, তবে কিছুই করা যাবে না। তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, “এখন সময় এসেছে আমাদের প্রকৃত শত্রুদের চিহ্নিত করার এবং নিশ্চিত করার যে, ২০২৬ সালে বিজেপির পতন বাংলার মাটি থেকেই শুরু হোক।”
সমীরুল ইসলামের কসবা সফর: (Bengal Migrant Worker death)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সাংসদ সমীরুল ইসলাম এবং অন্যান্য আদিবাসী নেতারা উত্তরপ্রদেশে নিহত আদিবাসী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বোলপুরের কাছে কসবা গ্রাম যাচ্ছেন। সফরের উদ্দেশ্য, নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো এবং তাদের সহায়তা প্রদান করা। তবে, এ সফরের কিছুদিন পরেই লখনউতে বিজেপি সাংসদ ব্রীজলাল দলিত সাফাইকর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি তাদের “সন্ত্রাসবাদী” ও “বাংলাদেশি” বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:Bengal BJP: রাজ্য কমিটিতে ৭০-৮০ শতাংশ নতুন মুখ! ছাব্বিশের আগে বঙ্গ-বিজেপিতে বড় রদবদলের ইঙ্গিত
এই সফর এবং বিজেপি সাংসদের মন্তব্য এখন রাজ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আদিবাসী শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে তৃণমূলের নেতাদের সফর এবং বিজেপি নেতার মন্তব্যে আরও একবার উত্তরপ্রদেশের বাঙালি শ্রমিকদের প্রতি নির্যাতনের বিষয়টি সামনে এসেছে (Bengal Migrant Worker death)। তৃণমূল কংগ্রেস এখন দাবি করছে, এ ধরনের সহিংসতা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ আরো জোরদার করতে হবে এবং এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তৃণমূলের দাবিতে নতুন মাত্রা:
প্রতীক হেমরমের মৃত্যু, উত্তরপ্রদেশে বাঙালি শ্রমিকদের উপর নিপীড়ন, এবং বিজেপি সরকারের ভূমিকা—এই সবই এখন রাজ্যের রাজনীতি ও সমাজে গভীর উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, এবং দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছে (Bengal Migrant Worker death)। তৃণমূলের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট — বাঙালির অধিকার রক্ষা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, নয়তো ২০২৬ সালে বাংলার মাটি থেকে বিজেপির পতন নিশ্চিত হতে পারে।


