Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ঐতিহ্য ও পরিচয়ের বাহক (Bengali Language)। প্রতিদিন যে ভাষায় কথা বলি, সেই কথ্য রূপ আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে মিশে থাকে, আবার যে ভাষায় লিখি, সেটি হতে হয় শুদ্ধ, প্রমিত ও সর্বজনগ্রাহ্য। এ দুই রূপের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। দৈনন্দিন জীবনে সহজেই বলি—“তুই যাস”, “আমি খাইতেছি” বা “আমার সাথে যাবি?”, অথচ লিখিত আকারে সেগুলো দাঁড়ায়—“তুমি যাও”, “আমি খাচ্ছি”, “তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে?”। এখানেই কথ্য ও লিখিত ভাষার ভিন্নতা চোখে পড়ে।

এই পার্থক্যের কারণেই ভাষার শুদ্ধিকরণ নিয়ে সচেতনতা জরুরি হয়ে ওঠে। কারণ ভাষা যদি প্রমিত নিয়ম থেকে সরে গিয়ে আঞ্চলিকতা বা কথ্যতার ভিড়ে হারিয়ে যায়, তবে তা সমাজের বোধগম্যতা নষ্ট করে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়। “কি” আর “কী”, “সাথে” আর “সঙ্গে”—এই ধরনের ছোটখাটো ভিন্নতা হয়তো তুচ্ছ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো ভাষার সঠিক অর্থ ও ভাব প্রকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কি আর কী : ক্ষুদ্র পার্থক্যে বৃহৎ তাৎপর্য (Bengali Language)
- “কি” : অব্যয় পদ, সাধারণত প্রশ্ন বা বিস্ময় প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ :
- তুমি কি আমার কথা শুনছ?
- এমনও সম্ভব কি?
- উদাহরণ :
- “কী” : বিশেষ্য বা বিশেষণ, যা কোনো কিছুর পরিচয়, স্বরূপ বা গুণ বোঝায়।
- উদাহরণ :
- তোমার নাম কী?
- সে পড়াশোনায় কী ভালো!
- উদাহরণ :

সাথে নাকি সঙ্গে? প্রমিত রূপের প্রয়োজন (Bengali Language)
- সঠিক : আমি তোমার সঙ্গে যাব।
- ভুল : আমি তোমার সাথে যাব।
ভাষাবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রমিত রূপই লেখ্য ভাষায় ব্যবহার করা উচিত। সংবাদপত্রের মতো সর্বজনগ্রাহ্য মাধ্যমে এই শুদ্ধ রূপ ব্যবহার করলে সমাজের মানুষও ধীরে ধীরে সঠিক প্রয়োগে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।

কথ্য ভাষা কেন হুবহু লেখা যায় না (Bengali Language)
আঞ্চলিক ভিন্নতা :
- কলকাতার একজন মানুষ যেভাবে বলেন, ঢাকার মানুষ তা বলেন ভিন্নভাবে।
- যেমন, “তুমি যাচ্ছ” কথ্যভাষায় কোথাও হয় “তুই যাস”, কোথাও আবার “তুমি যাসো”।
উচ্চারণে সংক্ষেপণ :
- “আমি খাচ্ছি” কথায় হয়ে যায় “খাইতেছি” বা “খাইতাসি”।
- এগুলো লিখে দিলে ভাষার শুদ্ধতা নষ্ট হয়।
প্রেক্ষাপটনির্ভরতা :
- কথ্য ভাষা ভর করে টোন, দেহভঙ্গি, আবেগের ওপর।
- লিখিত ভাষায় সেসব অনুপস্থিত, তাই সেখানে ব্যাকরণ ও শব্দচয়নের স্পষ্টতা বেশি জরুরি।
ভাষার শুদ্ধিকরণ কেন জরুরি (Bengali Language)
বাংলা ভাষার শুদ্ধিকরণ কেবল শিক্ষার প্রয়োজনে নয়, বরং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও অপরিহার্য।
- সমাজে বোধগম্যতা : শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার করলে সবাই সহজে বুঝতে পারে।
- ভাষার মর্যাদা : ভুল উচ্চারণ বা বানান প্রজন্মের পর প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়লে ভাষার স্বকীয়তা নষ্ট হয়।
- সংস্কৃতি রক্ষা : বাংলা ভাষার মধ্যেই নিহিত রবীন্দ্রনাথ থেকে জীবনানন্দের সাহিত্য, লালনের গান থেকে নজরুলের কবিতা। তাই ভাষাকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা মানে নিজেদের ঐতিহ্যকে আঘাত করা।
বলা ও লেখায় শুদ্ধতার নিয়ম (Bengali Language)
বলার ক্ষেত্রে :
- আঞ্চলিকতা এড়িয়ে প্রমিত উচ্চারণ শেখা।
- অযথা বিদেশি শব্দ ব্যবহার কমানো।
- “স্কুল” কে “ইস্কুল” বলা এড়িয়ে চলা।
লেখার ক্ষেত্রে :
- বানানের সঠিকতা বজায় রাখা।
- কথ্য রূপ নয়, প্রমিত রূপ ব্যবহার।
- সংবাদপত্র, শিক্ষামাধ্যম ও সাহিত্য সবখানে শুদ্ধ বাংলার চর্চা করা।
আরও পড়ুন: Language: বলা ও লেখার ভাষা গুলিয়ে ফেলছেন না তো ?
বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। তাই বলায় ও লেখায় শুদ্ধতা রক্ষা করা কেবল দায়বদ্ধতা নয়, বরং একান্ত কর্তব্য। “কি” ও “কী”-এর সঠিক প্রয়োগ, “সঙ্গে”-র ব্যবহার এবং কথ্য ও লিখিত ভাষার পার্থক্য মেনে চলা—এসবই পারে বাংলাকে আরও সমৃদ্ধ ও শুদ্ধ করে তুলতে। আজকের দিনে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও ও শিক্ষাঙ্গন যদি শুদ্ধ বাংলার প্রচার করে, তবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেই শুদ্ধতা ছড়িয়ে পড়বে। কারণ, ভাষার শুদ্ধতা রক্ষাই হলো সংস্কৃতির শুদ্ধতা রক্ষা।



