Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীপান্বিতা অমাবস্যার আগের দিন, অর্থাৎ কালীপুজোর পূর্বসন্ধ্যায় বাঙালির ঘরে ঘরে পালিত হয় এক অনন্য উৎসবভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi)। আলো-অন্ধকারের এই সন্ধিক্ষণে বাঙালি যেন একসাথে স্মরণ করে পূর্বপুরুষদের, আর আহ্বান জানায় শুভ শক্তিকে।

কেন পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী? (Bhoot Chaturdashi)
‘ভূত চতুর্দশী’ শব্দের অর্থই হচ্ছে চতুর্দশী তিথিতে ভূত বা প্রেতাত্মাদের সঙ্গে সম্পর্কিত দিন। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন নাকি মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মারা বা চৌদ্দ পুরুষ পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাই সন্ধ্যার পর চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন আছে, যেন তারা পথ চিনে ঘরে ফিরে আসতে পারেন। একই সঙ্গে বিশ্বাস, এই আলো অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করে। অর্থাৎ, ভূত চতুর্দশী মূলত আলো ও শুভশক্তির আহ্বান, আর অন্ধকার ও অশুভ শক্তির বিদায় জানানোর দিন।
রাজা বলি ও বামন অবতার (Bhoot Chaturdashi)
দানবরাজ বলি একসময় স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল তিন ভূবন দখল করে নিয়েছিলেন। তাঁর অত্যাচারে দেবতা ও মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়েন। তখন দেবগুরু বৃহস্পতি ভগবান বিষ্ণুকে উপায় বলেন। বিষ্ণু বামন রূপে বলির দরবারে গিয়ে তিন পা জমি ভিক্ষা চান। দুই পায়ে স্বর্গ ও মর্ত্য দখল করে নেওয়ার পর, তৃতীয় পা তিনি রাখেন বলির মাথায়। এতে বলি পাতালে নেমে যান। কিন্তু তাঁর দানবীরত্বে সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে আশীর্বাদ দেন বছরে একবার তিনি পৃথিবীতে ফিরে এসে পুজো গ্রহণ করবেন। সেই দিনই নাকি ভূত চতুর্দশী, যখন রাজা বলি নরকাসুর রূপে ভূতপ্রেত-সহ মর্ত্যে ফিরে আসেন পুজো নিতে।
প্রেতাত্মা ও পূর্বপুরুষ! লোকবিশ্বাসের গল্প? (Bhoot Chaturdashi)
বাঙালি লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন চৌদ্দ প্রজন্মের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সন্ধ্যায় চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো হয় ঘরের বারান্দায়, উঠোনে, কিংবা চালের ধারে। এই প্রদীপের আলোয় নাকি প্রেতাত্মারা শান্তি পান, আর গৃহস্থের ঘর থেকে দূর হয় অশুভ শক্তি। গ্রামের দিকে এই রীতি এখনও অনেক জায়গায় অক্ষুণ্ণ সন্ধ্যার পর গৃহিণীরা প্রদীপ জ্বেলে বলেন, “চৌদ্দ ভূতের প্রদীপ জ্বালি, সুখে থাকি, শান্তি পাই।”
চৌদ্দ শাক খাওয়ার রীতি (Bhoot Chaturdashi)
ভূত চতুর্দশীর আর এক পরিচিত প্রথা হলো চৌদ্দ শাক খাওয়া। বিশ্বাস, বছরের এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। তাই ঋতু পরিবর্তনের আগে শরীর পরিশুদ্ধ রাখতেই এই প্রথার প্রচলন। এছাড়াও, এই শাকগুলি অশুভ শক্তি দূর করার প্রতীক বলেও ধরা হয়।
দেবী চামুণ্ডার আগমন (Bhoot Chaturdashi)
আরও এক প্রচলিত বিশ্বাস বলে ভূত চতুর্দশীর রাতে মা কালী চামুণ্ডা রূপে অবতীর্ণ হন। সঙ্গে আসেন চৌদ্দ ভূত, যারা ভক্তদের ঘর থেকে অশুভ শক্তি তাড়িয়ে দেন। তাই সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বালানো মানে কেবল প্রেতাত্মাদের জন্য পথ দেখানো নয়, বরং দেবীর আগমনকে আলোক দিয়ে স্বাগত জানানো।
আরও পড়ুন: Kali Puja: কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কুমোরটুলি, টানা বৃষ্টিতে চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা
তমসা জয় করার দিন (Bhoot Chaturdashi)
অমাবস্যার অন্ধকারের আগের দিন বাঙালির ঘরে তাই আলো জ্বলে ওঠে। এই আলো কেবল প্রদীপের নয় এটি আত্মিক আলো, যা ভয়, অন্ধকার ও অজানার তমসাকে জয় করে। ভূত চতুর্দশী তাই কেবল ভূতের গল্প নয়, এটি আলোর উৎসবের ভূমিকা, যা দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতের আগমনী গান হয়ে বাজে প্রতিটি বাঙালির ঘরে।



