Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিন পর টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে ফিরলেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু (Biswanath Basu)। ‘ শ্রীমান ভগবান দাস’ ধারাবাহিকে ‘ভগবান দাস’-এর চরিত্রে তিনি অভিনয় করছেন। চরিত্রে তিনি এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ, যিনি জীবনের টানাপোড়েনে প্রতিদিন লড়াই করেন। এই চরিত্রটি শুধু অভিনয় নয়, যেন তিনি নিজের জীবনেরই মিল খুঁজে পান অনেকটাই। এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কোন বিষয়টি সবচেয়ে নাড়া দিয়েছিল অভিনেতার? এই চরিত্রের সাথে কী মিল খুঁজে পান তিনি? বলতে বলতে চোখের জল অভিনেতার । আর কী কী জানালেন তিনি? সে সমস্তই উঠে এল কেটিভির সাক্ষাৎকারে।

চরিত্রের গবেষণা (Biswanath Basu)
বিশ্বনাথ (Biswanath) জানান, ‘ভগবান দাস’ চরিত্রটি তৈরি হয়েছে মধ্যবিত্ত জীবনের গভীর বাস্তবতা থেকে। প্রতিদিনের হিসেব-নিকেশ, মাসের শেষের আর্থিক টানাটানি এই চরিত্রের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা তাঁর খুব চেনা। মাসের কুড়ি তারিখ পেরোলেই মাইনের পয়সা ফুরিয়ে আসা, তখন সংসার চালাতে কষ্ট হওয়া , সে সমস্তই তুলে ধরা হয়েছে ‘ভগবান দাস ‘ চরিত্রে। এই চরিত্রটির স্ক্রিপ্ট হাতে পেয়ে বিশ্বনাথ আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। বলেন, “আমি ভগবান দাসের চরিত্র পড়তে পড়তেই নিজের জীবনের শুরুর সময়টাকে খুঁজে পাই নিজের মধ্যে।”

বাস্তবের সঙ্গে মিল (Biswanath Basu)
বাস্তব জীবনে বিশ্বনাথও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন। মাসের অর্ধেক কেটে গেলে টানাটানি শুরু হতো—সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। তাই ভগবান দাসের সংলাপ, আচরণ বা অভ্যাস—সব কিছুই বাস্তব জীবনের মতোই মনে হয়েছে। অর্থাৎ এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনেতা তাঁর বাস্তব জীবনের গল্পের মিল পেয়েছেন।

শিবভক্ত অভিনেতা ও ভগবান দাসের মিল (Biswanath Basu)
বাস্তব জীবনে যেমন বিশ্বনাথ ঈশ্বর বিশ্বাসী, তেমনি ভগবান দাসও মহাদেবের অনুগামী।
বিশ্বনাথের বসিরহাটের বাড়িতে তিনটি শিবমূর্তি রয়েছে। আসার সময় তিনি বুড়ো শিবকে চুমু খেয়ে আসেন। এবারে আসার সময় জড়িয়ে আদর করে বলে এসেছেন, “ তুমি সবটা দেখে নিও, সবকিছু ভালো হোক।” এই বিশ্বাসই তাঁর ‘ ভগবান দাস’ চরিত্রে নতুন প্রাণ দিয়েছে।
বেনারস প্রসঙ্গে গভীর আবেগ (Biswanath Basu)
অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর (Biswanath Basu) এই নতুন ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করার সময়, যে দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, সেটি ছিল বেনারস যাওয়া প্রসঙ্গ। ভগবান দাসের বাবা বেনারস যেতে চান, কিন্তু ছেলে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আর্থিক টানাটানিতে তা সম্ভব হয় না। এই দৃশ্য করতে গিয়েই বিশ্বনাথের মনে পড়েছে নিজের জীবনের ঘটনা।
বাস্তবেও, একসময় অভিনেতার বাবা বেনারস যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখন টাকা পয়সা থাকলেও সময়ের সংকটে বিশ্বনাথ বাবাকে নিয়ে যেতে পারেননি। “আজ তাঁর ক্ষমতা থাকলেও বাবা পাশে নেই,” বলতে বলতে অভিনেতার চোখে জল আসে। বিশ্বনাথের এই আক্ষেপই তাঁকে চরিত্রের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেছে।তিনি বলেন, “ ভগবান দাস চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে দুই একবার ছাড়া আমাকে আলাদা গ্লিসারিন নিতে হয়নি।”

আরও পড়ুন:Kolkata Weather Update: বৃষ্টি থামল! তবে কি এবার শীতের কড়া নাড়া?
চরিত্রে সত্যতার ছোঁয়া
বিশ্বনাথ বসু (Biswanath Basu) জানালেন, ভগবান দাস শুধু একটি চরিত্র নয়, এটি এক বাস্তব মানুষের গল্প। যাঁরা সাধারণ মানুষ, প্রতিদিন নিজেদের মতো করে লড়াই করে, এই চরিত্র তাঁদের সবার প্রতিনিধি, বলে মনে করেন অভিনেতা। ভক্তদের প্রত্যাশা, বিশ্বনাথের এই প্রত্যাবর্তন টেলিভিশন পর্দায় এক নতুন ছাপ রাখবে।



