Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক ছুটির দিন হল থ্যাঙ্কসগিভিং (Black Friday Sale)। প্রতি বছর নভেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার আমেরিকায় এই দিনটি পালিত হয়। বছরের সকল প্রাপ্তির জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন এটি। থ্যাঙ্কসগিভিং–এর পরের দিনটিই পরে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ নামে আর আজকের দিনে এর অর্থ মূলত বিশাল ছাড়, অফার আর কেনাকাটার উৎসব।
সোনার বাজারের ধস (Black Friday Sale)
‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ শব্দটি যে আজকের মতো আনন্দ ও কেনাকাটা বোঝাত, তা নয়। ১৮৬৯ সালের ২৪ আগস্ট, আমেরিকার সোনার বাজারে ভয়াবহ ধস নেমে আসে। কারণ হঠাৎ করেই মার্কিন ট্রেজারি থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ ডলার মূল্যের সোনা বাজারে ছুঁড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে: সোনার দাম মুহূর্তে ভেঙে পড়ে, বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন, স্টক মার্কেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আমেরিকার অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, এই দিনটিকে তাই বলা হয় ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’, অর্থাৎ আর্থিক ইতিহাসের এক কালো দিন।
ফিলাডেলফিয়ার অভিজ্ঞতায় ব্ল্যাক ফ্রাইডে (Black Friday Sale)
১৯৫০–এর দশকে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ শব্দটি আবার ফিরে আসে, তবে ভিন্ন অর্থে। ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ প্রথম থ্যাঙ্কসগিভিং–এর পরের দিনটিকে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ নামে ডাকতে শুরু করে। কারণ: ছুটির দিন শেষে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়তেন, বিশাল ভিড় হতো দোকানপাটে, কেনাকাটার ধুম পড়ত, পুলিশের জন্য ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত, দোকানগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা অতিরিক্ত ভিড়, কাজের চাপ, বিশৃঙ্খলা সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের জন্যও দিনটি হয়ে উঠত “কালো”।
লাল কালির বদলে কালো কালি (Black Friday Sale)
১৯৮০–এর দিকে ব্যবসায়ীরা এই দিনটির অর্থ পাল্টে দেন। সারা বছরের ক্ষতি তাঁরা লাল কালিতে হিসাব করতেন, আর লাভে ফিরলে কালো কালিতে নথিভুক্ত করতেন। দেখা যায়, থ্যাঙ্কসগিভিং–এর পরের দিনটিতেই:, সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা হয়, দোকানগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে যায়, ব্যবসায়ীরা ভারী মুনাফা করেন, এই কারণেই ব্যবসায়ীরা বলেন, “এ দিন আমাদের লাল থেকে কালোয় ফেরার দিন”, এবং সেখান থেকেই আধুনিক ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল–এর ধারণার জন্ম।
অনলাইন শপিংয়ের যুগে ব্ল্যাক ফ্রাইডে (Black Friday Sale)
যদিও ব্ল্যাক ফ্রাইডে–র উৎপত্তি আমেরিকায়, আজ তা হয়ে উঠেছে গ্লোবাল শপিং উৎসব। ই-কমার্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, আমাজন, ইবে, আলিএক্সপ্রেস, ফ্লিপকার্ট, মিন্ত্রা, অ্যাপলসহ বহু কোম্পানি, এই দিনটিকে লক্ষ্য করে বিশাল ছাড় ঘোষণা করে, দোকানগুলোতে অফলাইনেও জমজমাট ভিড় হয়, ক্রেতারা অপেক্ষা করে থাকেন বর্ষসেরা অফারের, ভারতেও গত এক দশকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল ভয়াবহ জনপ্রিয় হয়েছে। অনেকে দীপাবলির পরপরই ব্ল্যাক ফ্রাইডের কেনাকাটাকে ‘দ্বিতীয় উৎসব’ হিসেবে ধরে।
আরও পড়ুন: Donald Trump: অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
ব্ল্যাক ফ্রাইডে আজ
আধুনিক অর্থনীতিবিদদের মতে: ব্ল্যাক ফ্রাইডে গ্লোবাল অর্থনীতিতে বিপুল প্রভাব ফেলে, ভোক্তার কেনাকাটার আচরণ এই দিনে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়, ব্র্যান্ডগুলো বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী বিক্রি পায়, আবার অনেকেই অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে ক্ষতির মুখেও পড়েন, অতএব ব্ল্যাক ফ্রাইডে শুধু ছাড়ের দিন নয়, এটি আজ গ্লোবাল অর্থনীতি, মার্কেটিং কৌশল, ভোক্তা মনস্তত্ত্ব সবকিছুর সম্মিলন।



