Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে ফের উত্তাপ বাড়াচ্ছে SIR সংক্রান্ত কাজের (BLO) চাপ। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের এক বিএলওর গুরুতর অসুস্থতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ৫৭ বছরের দেবাশিষ দাস, যিনি ফ্রেজারগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ২৭৬ নম্বর বুথের দায়িত্বে ছিলেন, মঙ্গলবার রাতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, টানা কয়েকদিন ধরেই SIR সংক্রান্ত কাজের চাপে তিনি শারীরিকভাবে ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন।
অবস্থার অবনতি (BLO)
এলাকা ঘুরে কাজ সারার পর বাড়ি ফিরে রাতে তাঁর (BLO) অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে তাঁকে কাকদ্বীপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সার পর পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ডায়মন্ড হারবারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আইসিইউতেই তাঁকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় রাতেই চিকিৎসকেরা তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই ভর্তি, এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে-দেবাশিষবাবুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।

প্রাথমিকভাবে ব্রেন স্ট্রোকের সন্দেহ (BLO)
দেবাশিষ দাসের ছেলে সৌরভ জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে বাবা (BLO) অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পরিবার বারবার সাবধান করলেও তিনি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যান। ছেলের কথায়, “শরীর ভাল না থাকলেও বাবা মানুষের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই পুরো শরীর অবশ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া দিচ্ছেন না।” চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে ব্রেন স্ট্রোকের সন্দেহ করছেন।
রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন অস্বাভাবিকভাবে কম সময়ে বিপুল কাজ চাপিয়ে দিচ্ছে, ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়ছেন। তাঁর বক্তব্য, “বিএলওদের ওপর যে ধরনের কাজের বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা। এই অতিরিক্ত চাপই আজ দেবাশিষবাবুর জীবনসঙ্কটের কারণ।”
আরও পড়ুন: Rahu Gochar: ১৮ বছর পর রাহুর গোচর, কার ভাগ্য উদয় হবে?
এটাই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে হুগলির কোন্নগরে এক মহিলা বিএলও স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি মালবাজার ও নদিয়ার দুই বিএলও আত্মঘাতী হন-যা প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। SIR নিয়ে জনসাধারণ এবং কর্মীদের অসন্তোষ দিনে দিনে বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


