Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কর্মক্ষেত্রে কোনও পুরুষ সহকর্মী কি আপনার চোখের বদলে আপনার শরীরের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকছেন? আপনার জন্য বিষয়টি চরম অস্বস্তিকর এবং কুরুচিকর হতে পারে, কিন্তু দেশের আইন অনুযায়ী একে সব সময় ‘অপরাধ’ বলা যাবে না। সম্প্রতি এক মামলার রায় দিতে গিয়ে এমনই সংবেদনশীল কিন্তু বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay HC)। আদালত জানাল, অফিসের মতো জনসমক্ষে কোনও মহিলার স্তনের দিকে তাকিয়ে থাকাটা অনৈতিক হতে পারে, তবে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ‘ভয়ারিজম’ সংক্রান্ত ধারায় অপরাধ নয়।
শরীরের দিকে তাকালে কি ‘ভয়ারিজম’?
এক বেসরকারি বিমা সংস্থার মহিলা কর্মী অভিযোগ করেছিলেন, মিটিং চলাকালীন এক সহকর্মী তাঁর চোখের দিকে না তাকিয়ে বারবার শরীরের দিকে কুরুচিকরভাবে তাকিয়ে থাকতেন। মহিলার দাবি ছিল, এটি তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় আঘাত। অফিসের অভ্যন্তরীণ তদন্তে সুরাহা না পেয়ে তিনি আদালতের (Bombay HC) দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
আরও পড়ুন: Anant Ambani: বন্যপ্রাণের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা, অনন্তের অবিরাম উদ্যোগে শিরোনামে পশুপ্রেম
বিচারপতি অমিত বোরকারের পর্যবেক্ষণ আইন এবং নৈতিকতার এক সূক্ষ্ম সীমারেখা টেনে দিয়েছে। তিনি বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪সি (ভয়ারিজম) ধারাটি মূলত তৈরি হয়েছে তখন, যখন কোনও মহিলা একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে থাকেন। যেমন পোশাক পরিবর্তন বা বাথরুম ব্যবহারের মতো সময় যদি কেউ নজরদারি চালায় বা ছবি তোলে, তবেই তা দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিচারপতির মতে, অফিসের প্রকাশ্য পরিবেশে কারও দিকে তাকিয়ে থাকা অবশ্যই ‘অস্বস্তিকর’। কিন্তু তাকে যদি আমরা ‘উঁকিঝুঁকি’ বা ‘গোপন নজরদারি’র তকমা দিয়ে দিই, তবে আইনের অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। আইনকে তার সীমার বাইরে নিয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তিও অবিচারের শিকার হতে পারেন।
‘অনৈতিক কিন্তু দণ্ডনীয় নয়’ (Bombay HC)
আদালত (Bombay HC) এই রায় দিলেও একটি বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে, এই ধরনের আচরণ কর্মক্ষেত্রে কোনোভাবেই কাম্য বা গ্রহণযোগ্য নয়। আইনত অপরাধ না হলেও এটি যে একজন মহিলার জন্য মানসিকভাবে হেনস্থাজনক, তা আদালত স্বীকার করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনের রক্ষাকবচ কেবল প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, অনুভূতির ওপর নয়।
আরও পড়ুন: Mission Artemis 2: উত্তেজনার ছ’মিনিট পেরিয়ে স্বস্তি, পৃথিবীতে ফিরল আর্টেমিস ২ অভিযানের দল
এই রায় নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল, আইনের চোখে যা অপরাধ নয়, সমাজের চোখে কি তা-ও বৈধ? কর্মক্ষেত্রে নারীদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি তবে আমাদের আরও কড়া আইনি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে? উত্তরটা আজও ধোঁয়াশায়।


