Last Updated on [modified_date_only] by
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (Operation Sindoor) ন’টি এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় সেনার এই সাফল্যে উল্লসিত অনেকেই। আনন্দিত পহেলগাঁওয়ে নিহতদের স্ত্রীরা, যাঁদের সিঁথির সিঁদুর মুছে গিয়েছিল গত ২২ এপ্রিলের কয়েক মিনিটের জঙ্গিহানায়! ভারতের এই পাল্টা হামলায় আনন্দিত পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিজনেরা।
চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না (Operation Sindoor)
পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর কেন্দ্রস্থলে ভারতের এই হামলায় আনন্দিত পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিজনেরা (Operation Sindoor)। কেউ বলছেন, এত দিনে শান্তি পেলাম। কেউ কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না। নিহত সন্তোষ জগদলের কন্যা অশ্বরী জগদলের কথায়, ‘‘আনন্দে কাঁদছি! অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশোধ নিয়েছেন। যে ভাবে অভিযানের নামকরণ করা হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’, তাতে আমাদের চোখের জল বাঁধ মানছে না। যে বোনেদের সিঁথির সিঁদুর জঙ্গিরা মুছে ফেলেছিল- তাদের স্বস্তি দিয়েছে ভারত। জঙ্গিদের ন’টি কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে। এ সত্যিই এক অবর্ণনীয় অনুভূতি।’’
‘আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে’ (Operation Sindoor)
কেরলের কোচির বাসিন্দা নিহত এন রামচন্দ্রনের মেয়ে আরতি মেনন বলেন, ‘‘আমাদের ক্ষতি অপূরণীয়। তবে আজ আমরা গর্বিত। দু’হাত জোড় করে মোদীকে ধন্যবাদ জানাই।’’ (Operation Sindoor) আর এক নিহত শুভম দ্বিবেদীর স্ত্রী অশন্যা দ্বিবেদী বলছেন, ‘‘আমার স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ। আমাদের গোটা পরিবার তাঁর উপর আস্থা রেখেছিল। উনি আমাদের বিশ্বাস রেখেছেন। অবশেষে আজ আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে।’’
আরও পড়ুন: Operation Sindoor: পহেলগাঁও হামলায় ভারতীয় মহিলাদের সিঁদুর মুছে দেওয়ার প্রতিশোধ ‘অপারেশন সিঁদুর’
‘ভারতীয় সেনাবাহিনীকে স্যালুট’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই বিয়ে হয়েছিল কানপুরের বাসিন্দা এই যুগলের। তার পরের গল্পটা সবার জানা। বিয়ের দু’মাসের মাথায় পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানায় স্বামীকে হারান অশন্যা। শুভমের বাবা সঞ্জয় দ্বিবেদীও বলছেন, ‘‘ভারতীয় সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানাই। এই খবর শোনার পর থেকে আমার গোটা পরিবার হালকা বোধ করছে।’’ হিন্দু মহিলারা সাধারণত কপালে সিঁদুর পরে বিবাহের চিহ্ন বহন করেন। জঙ্গিরা সেই চিহ্ন মুছে দিয়েছে। ওই ঘটনার পর সদ্যবিধবা মহিলাদের করুণ ছবি সমাজমাধ্যমে ছেয়ে গিয়েছিল। উপত্যকার মাঝে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে তাঁকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ওই ছবিটিই ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রতীকী ছবি হয়ে উঠেছে।
স্লোগান তুলে করতালি
পাকিস্তানকে ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। যারা ওই হামলা চালায় তাদের বিরুদ্ধে ‘ কল্পনাতীত’ পদক্ষেপ করার কথাও একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ভারতের সেনাকে ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মতো মঙ্গলবার রাতেই পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। ধবার ভোর থেকেই উচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরেও। কোথাও কোথাও ‘ভারতীয় সেনা জিন্দাবাদ’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ প্রভৃতি স্লোগান তুলে করতালিতে ফেটে পড়তে দেখা গিয়েছে স্থানীয়দের।


