Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বইমেলা বাঙালির কাছে কেবল কেনাবেচার জায়গা নয় এ এক সামাজিক উৎসব, এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ( Book Fair)। বইমেলা মানে নতুন বইয়ের গন্ধ, প্রিয় লেখকের সঙ্গে দেখা, কবিতা পাঠ, বিতর্কসভা, আর মতের আদানপ্রদান। ঐতিহাসিকভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে বইমেলার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে আত্মবলিদান দিয়েছিলেন পূর্ব বাংলার তরুণেরা। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই দিনকে সামনে রেখে বইমেলা মানে কেবল উৎসব নয়, ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারও। সূত্রের খবর, বর্তমান সময়ে যখন বাংলা ভাষাভাষীদের নানা প্রান্তে নিপীড়নের অভিযোগ উঠছে ওড়িশা থেকে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি থেকে গুজরাট তখন বইমেলা এক প্রতীকী প্রতিবাদের জায়গা হয়ে উঠছে। ‘অস্ত্র নয়, অক্ষর আমাদের হাতিয়ার’ এই স্লোগানেই যেন নতুন প্রজন্মের অক্ষরযোদ্ধারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।

বর্তমান সময়ে বইমেলার গুরুত্ব কতটা? ( Book Fair)
বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে ( Book Fair)। এই প্রেক্ষাপটে বইমেলা হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ক্ষেত্র। বাংলা বই কেনা, পড়া ও প্রকাশনার মাধ্যমে ভাষার চর্চা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি জয় গোস্বামী থেকে স্বপ্নময় চক্রবর্তী অনেক সাহিত্যিকই মতপ্রকাশের প্রশ্নে বিতর্ক ও হেনস্থার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। বইমেলা তাঁদের কণ্ঠস্বরকে বৃহত্তর পাঠকমহলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে। বড় প্রকাশনার পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিনের অংশগ্রহণ বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ। এখানেই জন্ম নেয় নতুন চিন্তা, নতুন কবিতা, নতুন সাহিত্য আন্দোলন। বইমেলা মানে পরিবার, বন্ধু, ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে নিয়ে এক মুক্ত আড্ডার জায়গা। মতের অমিল থাকলেও আলোচনার দরজা খোলা থাকে।

‘একুশের বইমেলা’ ( Book Fair)
মহানগরীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা হিসেবে ‘একুশের বইমেলা’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরের বাঘাযতীন লায়েলকা মাঠ ও সংলগ্ন ওয়াকিং স্ট্রিটে। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই মেলা। আয়োজক Kolkata Creative Publishers Welfare Association। সহযোগিতায় রয়েছে Aurora Film Corporation এবং ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরমাতা বসুন্ধরা গোস্বামী এমনটাই জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলাটির উদ্বোধন করবেন নাগরিক কবিয়াল কবীর সুমন। উপস্থিত থাকবেন বহু বিশিষ্ট গুণীজন। ‘কথোপকথন ১০’-এর অংশ হিসেবে দিল্লির একটি নাট্যদল মঞ্চস্থ করবে রক্তকরবী পরিচালনায় সৌরাংশু সিংহ।
সাংস্কৃতিক আয়োজন ( Book Fair)
সূত্রের খবর, শতাধিক প্রকাশনা ও লিটল ম্যাগাজিন অংশগ্রহণ করছে এই মেলায়। আনন্দ, দে’জ, অভিযান, দীপ, সৃষ্টিসুখ, অক্ষর সংলাপ প্রকাশন-সহ বহু পরিচিত স্টল থাকবে। ‘কলকাতা কথকতা’র সংগ্রহে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মারক প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন থাকবে শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিশিষ্টজনদের বক্তৃতা, কবিতাপাঠ, গল্পপাঠ, বিতর্কসভা ও শ্রুতিনাটক।

আরও পড়ুন: America: মার্কিন পুলিশের গাড়ির ধাক্কা ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু
ভাষা আক্রান্ত সময়ে বইমেলা কেন জরুরি?
আজ যখন বাংলা ভাষাভাষীদের একটি অংশ নিজেদের প্রান্তিক ও আক্রান্ত মনে করছেন, তখন বইমেলা কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয় এ এক আত্মপরিচয়ের পুনরাবিষ্কার। বইমেলা আমাদের শেখায় সংলাপই পথ, সংস্কৃতিই শক্তি। ভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াই অস্ত্র দিয়ে নয়, অক্ষর দিয়ে। তাই ‘একুশের বইমেলা’ কেবল একটি মেলা নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক অবস্থান, এক সামাজিক বার্তা, এক ঐক্যের মঞ্চ এমনটাই মত সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের।



