Last Updated on [modified_date_only] by
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাওড়ায় রামনবমীর (Ram Navami 2025) জোড়া মিছিলে অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। হাই কোর্টের নির্দেশ, রামনবমীর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মিছিল করবে অঞ্জনী পুত্র সেনা। বিকেল ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করতে পারবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তবে যাঁরা মিছিলে অংশ নেবেন তাঁদের সকলের কাছে পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরেই ভরসা (Ram Navami 2025)
রামনবমী মিছিল বন্ধের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুজোয় কোথাও গোলমাল হলে কি দুর্গাপুজো বন্ধ করে দেব?’ হাওড়ায় রামনবমী (Ram Navami 2025) মিছিলে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরেই ভরসা রাখা হয়েছে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুমতি দেব না। পুলিশের অবশ্যই ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা থাকা আর প্রয়োগের উপর আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ২০-২২ সালের পর আরও হিংসা কমেছে। আশা করা হচ্ছে হিংসা আরও কমবে।’
ধাতুর তৈরি কোনও অস্ত্র ব্যবহার নয় (Ram Navami 2025)
রামনবমীতে মিছিল করতে চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিল অঞ্জনী পুত্র সেনা এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নামে দু’টি সংগঠন। পুলিশের তাদের অনুমতি দেয়নি। এর পরে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে তারা। শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, মিছিলে ধাতুর তৈরি কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। দুই সংগঠনের সর্বমোট এক হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নিতে পারবেন। আর মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের নাম-পরিচয় জানাতে হবে পুলিশকে। শুধু তা-ই নয়, মিছিলে হাঁটার সময় প্রত্যেকের কাছে নাম-পরিচয় লেখা কার্ড থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: Tourist Body Found: দিঘার হোটেল থেকে উদ্ধার যুবতীর ঝুলন্ত দেহ, পলাতক সঙ্গীরা
আলাদা সময়ে দুটি মিছিল
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এদিন সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে একাধিক বক্তব্য রাখেন বিচারপতির। একাধিক শর্তসাপেক্ষে দুই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হল। অঞ্জনী পুত্র সেনা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ পৃথকভাবে ওই মিছিল করবে। সেক্ষেত্রে ওইদিন আলাদা সময়ে দুটি মিছিল করা হবে। দুই মিছিল মলিয়ে মোট হাজার জন থাকতে পারবেন বলে নির্দেশ আদালতের। পৃথক রাস্তায় দুই মিছিল হবে। পিভিসি দিয়ে তৈরি যে কোনও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল করা যাবে।
‘অশান্তি প্রতি বছর কমছে’
সাম্প্রতিক অতীতে হাওড়ায় রামনবমীতে মিছিলের সময় উত্তেজনা, সংঘর্ষ দেখা গিয়েছে। তীর্থঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, “অশান্তি প্রতি বছর কমছে বলেই দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে বেশি গন্ডগোল হয়েছিল। ২০২৩ সালে কমেছে, ২০২৪ সালে আরও কম হয়েছে। এবছর মানুষ আরও সচেতন হয়েছে বলে আশা করা যায়।” বিচারপতির আরও মন্তব্য, “যদি বন্ধ করতেই হয়, তাহলে সব কর্মসূচিই বন্ধ করে দেব। রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক।”


