Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক বাড়িতে ফাটল ও হেলে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আতঙ্কের আঁচ এবার পৌঁছল হুগলির শ্রীরামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। বেআইনি নির্মাণ ঘিরে হওয়া এক মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষের আইনজীবীর দাবি (Calcutta High Court)
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষের (Calcutta High Court) আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রীরামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এস সি ঘোষ লেনে একটি বেসরকারি আবাসন নির্মাণ শুরু হতেই পার্শ্ববর্তী একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী প্রোমোটারের বিরুদ্ধে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চাননি। তবে নির্মাণস্থলের একেবারে পাশেই দেবপ্রসাদ বসাকের বাড়ি। তাঁর অভিযোগ, নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাড়ির বিভিন্ন অংশে মারাত্মক ফাটল দেখা দেয়।
অভিযোগ জানানো হলেও পদক্ষেপ নেয়নি পুরসভা (Calcutta High Court)
এই নিয়ে শ্রীরামপুর পুরসভায় একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন দেবপ্রসাদ বসাক। মামলাটি প্রথমে শুনানি করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র সেই নির্দেশ বহাল রাখেন।
অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরও শ্রীরামপুর পুরসভা কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্টে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার সন্তোষ চৌধুরী কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর ডিভিশন বেঞ্চে যায় নির্মাণকারী সংস্থা। সেখানেও তথ্য গোপনের অভিযোগে সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনা
এরপর ফের বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসে তাঁর রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় নির্মাণকারী সংস্থা। তাদের দাবি ছিল, রাজ্য সরকার নতুন আইনে বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিয়েছে তাই মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনা করা হোক।
আরও পড়ুন : ED Court Hearing: শুনানির আগেই আইনজীবীর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, অন্যদিকে ভরা এজলাসে চন্দ্রিমা
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে দাবি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারন অবৈধ নির্মাণ কার্যের জন্য আবেদনকারীর বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই তাঁর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে আদালত তার সুবিচার করুক।সেই প্রেক্ষিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র শ্রীরামপুর পুরসভাকে নির্দেশ দেন, কোনও নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির ক্ষতির পরিমাণ সমীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরনের নির্দেশ
সমীক্ষা রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই হাইকোর্ট ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, নির্মাণ কারি সংস্থার নির্মাণ নির্মাণ কার্য শ্রীরামপুর পৌরসভা নতুন আইনের খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।


