Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আগামী মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সারা দেশে চালু হতে চলেছে কলারের আসল নাম বা CNAP বৈশিষ্ট্য (Calling Line Identification Restriction)। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্রতারণামূলক ফোনকল, সাইবার জালিয়াতি এবং তথাকথিত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো নতুন প্রজন্মের অপরাধ রোধ করা। এই ব্যবস্থায়, যে কেউ ফোন করলে, তাঁর আসল নামটি ফোনের পর্দায় দেখা যাবে, ফলে গ্রাহক সহজেই জানতে পারবেন কে কল করছে।
স্প্যাম কলের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে (Calling Line Identification Restriction)
যদিও CNAP-এর মাধ্যমে প্রতারক বা জালিয়াত কলারদের ধরা সহজ হবে, কিন্তু স্প্যাম কল শনাক্ত করা এখনও কঠিন কাজ। কারণ এই স্প্যাম কলগুলি সাধারণ মোবাইল নম্বর থেকেই আসে, যা দেখতে একেবারেই স্বাভাবিক ফোন নম্বরের মতো। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ প্রতি তিন দিনে অন্তত দুই থেকে তিনটি স্প্যাম কল বা এসএমএস পান। এইসব কলের মাধ্যমে মানুষকে কখনও ঋণ নেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়, কখনও লটারি জেতার প্রতিশ্রুতি, আবার কখনও ক্রেডিট কার্ড বা পরিষেবা বিক্রির চেষ্টাও চলে।
ডিফল্টরূপে সক্রিয় থাকবে CNAP (Calling Line Identification Restriction)
টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, CNAP বৈশিষ্ট্যটি ডিফল্টরূপে সক্রিয় থাকবে অর্থাৎ সকল ব্যবহারকারী এই পরিষেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবেন। যদিও টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া প্রথমে পরামর্শ দিয়েছিল যে, এটি শুধুমাত্র আগ্রহী গ্রাহকদের জন্য চালু করা হোক, কিন্তু সাইবার প্রতারণা কমাতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটি দেশের সব মোবাইল ব্যবহারকারীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে সক্রিয় থাকবে। তবে গ্রাহক চাইলে পরবর্তীতে নিজে থেকে এই বৈশিষ্ট্যটি নিষ্ক্রিয় করতে পারবেন।
একই নামে একাধিক সিম হলে কী হবে? (Calling Line Identification Restriction)
ভারতের অনেক পরিবারে একই নাম ব্যবহার করে একাধিক সিম কার্ড নেওয়া থাকে। এই ক্ষেত্রে CNAP কীভাবে কাজ করবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে টেলিযোগাযোগ বিভাগ। বিভাগ জানিয়েছে, যে সিম কার্ডটির KYC বৈধ থাকবে, শুধুমাত্র সেই নামই প্রদর্শিত হবে। ভবিষ্যতে, ব্যবহারকারী চাইলে তাঁর নামে অতিরিক্ত তথ্য বা নিজস্ব নাম যুক্ত করার সুযোগও দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে (Calling Line Identification Restriction)
সরকার CNAP বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখছে। TRAI-এর সুপারিশ অনুযায়ী, যাঁদের CLIR সুবিধা রয়েছে, তাঁদের নাম CNAP-এ প্রদর্শিত হবে না। এই বিশেষ সুবিধা সাধারণত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়।
তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের যুগের অবসান (Calling Line Identification Restriction)
বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবহারকারী Truecaller বা অনুরূপ অ্যাপের মাধ্যমে কলারের নাম জানতে পারেন। তবে এই অ্যাপগুলির সমস্যা হলো এগুলি ব্যবহারকারীর ফোনবুক থেকে সংরক্ষিত নাম প্রদর্শন করে, যা সবসময় সঠিক নয়। অনেকে বন্ধুবান্ধবের নাম ছোট করে বা ডাকনামে সংরক্ষণ করেন, ফলে ভুল নাম দেখা যায়। অজানা নম্বর থেকে কল এলে সেই নামও আসে অ্যাপ কোম্পানির নিজস্ব ডাটাবেস থেকে, যা প্রায়ই ভুল বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। CNAP চালু হলে এমন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের প্রয়োজনই থাকবে না, কারণ নাম আসবে সরাসরি টেলিকম ডেটাবেস থেকে, যা হবে সরকারি যাচাই করা তথ্যের উপর ভিত্তি করে।
আরও পড়ুন: West Bengal Assembly: বিধানসভায় ‘ভূতের উপদ্রব’? রাত নামলেই নাকি ঘুরে বেড়ায় ‘অশরীরী’!
প্রতারণা রোধে এক বড় পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, CNAP চালু হলে ভারতের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এটি শুধু ডিজিটাল প্রতারণা রোধেই সাহায্য করবে না, বরং গ্রাহকের আস্থা বাড়াবে। তবে একাংশ মনে করছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে, ব্যবহারকারীদের জন্য “Opt-out” বা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যাতে তারা নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।



