Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ (Chickens Neck)। ওই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে অশান্তির সূত্রপাত, তা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। রাজধানী ঢাকা-সহ একাধিক জায়গায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক প্রতীক ধ্বংসের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুধু বাংলাদেশ নয়, কড়া নজর রাখছে ভারতও।

হামলার ভয়াবহতা (Chickens Neck)
সূত্রের খবর, বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়ি। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অধ্যায় হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। গোটা দেশজুড়ে আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
বাংলায় পড়া আটকাতে তৎপর দিল্লি (Chickens Neck)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অরাজক পরিস্থিতির প্রভাব যাতে কোনওভাবেই ভারতের ভূখণ্ডে না পড়ে, সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে দিল্লি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি (Chickens Neck)
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ এই ছয় জেলা মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার সীমান্তে নদী ও জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাঁটাতারের বেড়া নেই। আবার অনেক জায়গায় কাঁটাতার থাকলেও নদী সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত নয়। সূত্রের খবর, এই সব এলাকায় বিএসএফের টহল বাড়ানো হয়েছে। থার্মাল ক্যামেরা, নাইটভিশন ডিভাইস, সিসিটিভি এবং ড্রোনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
কোন জেলায় কতটা সীমান্ত (Chickens Neck)
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত দৈর্ঘ্যের দিক থেকে কোচবিহার জেলা সবচেয়ে সংবেদনশীল এখানে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং উত্তর দিনাজপুরে ২২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। দুই দিনাজপুর ও মালদহ মিলিয়ে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার এবং কোচবিহারের পুরো সীমান্ত জুড়েই নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়েছে।
‘চিকেনস নেক’ ঘিরে বাড়তি সতর্কতা (Chickens Neck)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই করিডোর ঘিরে রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চিন ফলে ভৌগোলিক কারণেই অঞ্চলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় থাকা তিনটি সামরিক ঘাঁটিকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে সূত্রে খবর।
বায়ুসেনার তৎপরতা বেড়েছে (Chickens Neck)
সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পস বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বাড়তি তৎপরতা শুরু করেছে। একই সঙ্গে হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা রাফাল যুদ্ধবিমান, মিগের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট এবং ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটকেও বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
জঙ্গি হামলার আশঙ্কা (Chickens Neck)
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে অশান্তির নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের উপর বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ, বছর শেষের আগেই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল। এই ষড়যন্ত্রে জামাত-ই-ইসলামি, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব উত তাহরির, আনসার আল ইসলাম এবং তথাকথিত ‘স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি’ বা মোহাজির সম্প্রদায়ের একাংশ জড়িত বলে দাবি।
আরও পড়ুন: Bangladesh Unrest: হাসিনার ছবিতে আগুন, আছড়ে ভাঙা হারমোনিয়াম, সংস্কৃতির উপর সরাসরি আঘাত!
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন তথ্য
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি ‘মোহাজির রেজিমেন্ট’ নামে একটি নতুন জঙ্গি ইউনিট গঠনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। এই ইউনিটে বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুবকদের নিয়োগ করে আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই হামলার নীলনকশা বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিতে পারে এক কুখ্যাত জিহাদি প্রকাশনার সম্পাদক, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত।



