Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: এই মুহূর্তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক কড়া শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে (Donald Trump)। বিশেষত ব্রিক্স (BRICS) গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপানোর ফলে এই প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। চিন, ভারত ও ব্রাজিল — এই তিনটি দেশই এই নতুন মার্কিন বাণিজ্যনীতির নিশানায় পড়েছে।
চিনা কূটনীতিকের কড়া মন্তব্য (Donald Trump)
চিনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে নাম না করেও ট্রাম্পকে ‘গুন্ডা’ আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, “এক ইঞ্চি জমি ছাড়লে, এক মাইল নিয়ে নেবে(Donald Trump) !” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, মার্কিন বাণিজ্যনীতি আসলে আগ্রাসী এবং একতরফাভাবে আরোপিত। এমনকি, ট্রাম্পের এই কৌশলকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্রাজিলের প্রতিক্রিয়া (Donald Trump)
ব্রাজ়িলের উপর ৫০% শুল্ক চাপানোর পর প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং তিনি ভারত এবং চীনের সঙ্গে আলোচনার পথেই হাঁটবেন। ব্রাজিলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চিন-ভারত সম্পর্কের উত্তরণ
চীন এই ঘটনার পর দ্রুত ভারতের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে(Donald Trump) । তারা ‘হাতি’ (ভারত) ও ‘ড্রাগন’ (চীন)-এর রূপক ব্যবহার করে বলেছে, “ড্রাগন আর হাতিকে একসঙ্গে নাচিয়ে দিতে হবে।” এর অর্থ—দুই শক্তিধর এশীয় অর্থনীতি যদি একজোট হয়ে কাজ করে, তবে শুধু নিজেদের নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতির উপকার হতে পারে।

মোদীর চিন সফরের তাৎপর্য (Donald Trump)
এই পটভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন চিন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে(Donald Trump) । ২০১৯ সালের পর এই প্রথম মোদী চিন সফরে যাচ্ছেন, তাও আবার আন্তর্জাতিক সংগঠন Shanghai Cooperation Organisation (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই বৈঠকে মার্কিন একতরফা শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতি কৌশল না কৌশলী হুমকি? (Donald Trump)
ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টদের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী(Donald Trump)। শুধু রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি করার ‘অপরাধে’ ভারতের উপর ২৫% এবং অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। এতে শুধু ভারত নয়, অন্যান্য ব্রিক্স দেশের প্রতিও তাঁর মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্কনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি নতুন মেরুকরণের সূচনা করছে। একদিকে ট্রাম্পের আগ্রাসী কৌশল, অন্যদিকে চিন-ভারত-ব্রাজিলের মধ্যে নবউদ্ভূত কূটনৈতিক সখ্যতা, বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


