Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের (yunus) তরফ থেকে পাঠানো চিঠি পাওয়ার পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election) । বৃহস্পতিবার কমিশনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মহম্মদ সানাউল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বর মাসে ঘোষণা করা হতে পারে এবং নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হতে পারে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, রমজান শুরুর আগেই।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান (Bangladesh Election)
নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করবেন, তাঁরা ভোটদানের সুযোগ পাবেন (Bangladesh Election)। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়েও ভাবছে কমিশন—তাঁদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় ও নির্দল প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ এবং নির্বাচনী বিধি অনুসারে সময়মতো প্রচার কার্যক্রম চালানোর রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন চায়। বুধবার কমিশনকে পাঠানো এক চিঠিতে মুখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিঁয়া নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাবিত সময়সীমার মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান। ওই চিঠিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য অনুরোধ জানায় ইউনূসের সরকার।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউনূসের প্রতিশ্রুতি (Bangladesh Election)
এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে রমজান শুরুর আগে নতুন সরকার গঠন সম্ভব হয় (Bangladesh Election)। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্তরে—ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করার কাজও এগোচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নির্বাচন (Bangladesh Election)
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ(Bangladesh Election)। নির্বাচন কমিশনের দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেশবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লা বলেন, “আমরা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং সংবিধান অনুযায়ী সব দিক বিবেচনায় নিয়েই ভোট আয়োজন করা হবে।”

এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে এবং তারা এই ঘোষিত সময়সীমার ভিত্তিতে কতটা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সুষমতা এবং গণ।


