Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার চিনেপাড়া ট্যাংরা এলাকা। যা ‘চায়না টাউন’ নামেও পরিচিত। এখানে রয়েছে এক অনন্য উপাসনাস্থল চাইনিজ কালী মন্দির। এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল এখানে দেবী কালীর উদ্দেশ্যে প্রসাদ হিসেবে ফল-মিষ্টি বা নিরামিষ ভোগের বদলে দেওয়া হয় নুডলস, মোমো, চপ সোয়ে ও ফ্রাইড রাইসের মতো চিনে খাবার(Chinese Kali Temple)।
সাংস্কৃতিক মিলনের প্রতীক কালী মন্দির (Chinese Kali Temple)
১৯৩০-এর দশকে চিনে অশান্তি ও গৃহযুদ্ধের সময় বহু চিনা শরণার্থী কলকাতায় এসে ট্যাংরায় বসতি গড়েন। ধীরে ধীরে এই অঞ্চল চিনা সংস্কৃতি, খাবার ও উৎসবের মিলনস্থলে পরিণত হয়। নিজেদের ঐতিহ্য ছেড়ে না দিয়ে, তারা স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এক নতুন সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করেন। সেই মিলনেরই প্রতীক এই চাইনিজ কালী মন্দির।
মন্দিরের মাহাত্ম্য কথা
লোককথা অনুযায়ী, একসময় এলাকায় গাছতলায় দুটি কালো পাথর ছিল, যাকে ঘিরেই পুজো শুরু। শোনা যায় এক অসুস্থ চিনা বালককে সেখানে এনে তার পরিবার দেবী কালীর কাছে প্রার্থনা করে। অলৌকিকভাবে বালকটি সুস্থ হয়ে উঠলে কৃতজ্ঞতাবশত পুজো শুরু হয়। পরে চিনা ও বাঙালি ভক্তদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে মন্দির।
প্রসাদের বিশেষত্ব (Chinese Kali Temple)
চিনা সম্প্রদায়ের কাছে নুডলস, ভাত বা মোমো যেমন দৈনন্দিন খাদ্য, তেমনই তা তাদের আবেগের অংশ। তাই সেই পরিচিত খাবারই হয়ে ওঠে এই এলাকার দেবীর ভোগ। এখানে বিশ্বাস করা হয়, ভক্তির আন্তরিকতাই আসল, খাবারের ধরণ নয়।
অপূর্ব মিলনমেলা (Chinese Kali Temple)
আজ এই মন্দিরে বাঙালি ও চিনা উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে পুজোয় অংশ নেন। আরতির পর দেবীর ভোগ হিসেবে নিবেদিত নুডলস বা মোমোই প্রসাদ হিসেবে বিতরণ হয়। চাইনিজ কালী মন্দির তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলা।



