Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুরাণ অনুসারে নারদ মুনি ব্রহ্মার মানসপুত্র। তিনি ঈশ্বরের দূত, বিষ্ণুর অনুগত ভক্ত (Narad Puja 2025)। মুখে সর্বক্ষণ “নারায়ণ, নারায়ণ” এই উচ্চারণেই যেন তাঁর সত্তা প্রকাশ পায়। দেবলোক থেকে মর্ত্যলোকে, মর্ত্য থেকে পাতালে সর্বত্র তাঁর অবাধ যাতায়াত। কখনও দেবতাদের বার্তা তিনি পৌঁছে দেন মানুষকে, কখনও আবার মানুষের আর্তি পৌঁছে দেন দেবতাদের কানে। তাই তো রতনপুরের মানুষ বিশ্বাস করেন দেবতাদের কাছে খবর পৌঁছানোর সবচেয়ে দ্রুত পথ নারদ মুনি।

বেকারত্বের কষ্ট থেকে উৎসবের জন্ম (Narad Puja 2025)
২০১২ সাল। বাঁকুড়া শহরের অদূরে, বাঁকুড়া-২ ব্লকের নবান্দা গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম রতনপুর। সেখানে জনা আটেক শিক্ষিত বেকার যুবক একদিন মিলিত হলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ চাকরির অপেক্ষায়, কেউ হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। তখনই এক অভিনব ভাবনা আসে, “যদি দেবর্ষি নারদের মাধ্যমে নিজেদের কষ্ট দেবতাদের কানে পৌঁছে দেওয়া যায়?” সেই ভাবনা থেকেই চাঁদা তুলে শুরু হয় ‘নারদ পুজো’। প্রথম বছর বাজেট ছিল মাত্র ৭ হাজার টাকা। ছোট্ট আঙিনায়, হাতে গোনা কিছু ভক্তের উপস্থিতিতে শুরু হয় আরাধনা।
‘নারদ পুজো’ যেন আশীর্বাদ (Narad Puja 2025)
পুজোর পরবর্তী বছরে একের পর এক যুবক চাকরি পান। কেউ সরকারি চাকরিতে, কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। গ্রামের মানুষরা মনে করেন এটা দেবর্ষির আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব নয়। এই বিশ্বাসই রতনপুরবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে যায়। ফলে বছর গড়িয়ে আজ এই পুজোর বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।
পুজো মানেই এখন গ্রামজুড়ে উৎসব (Narad Puja 2025)
আগে যেখানে তিন দিনের মধ্যে পুজো শেষ হয়ে যেত, এখন তা পাঁচ দিনের মহোৎসব। এই পাঁচ দিনে গোটা গ্রাম যেন আলোয় মোড়া। নারদের মণ্ডপের সামনে বসে মেলা, চলে যাত্রাপালা, নাট্যপ্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এবং রাতভর জলসা। চারপাশের গ্রাম থেকেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন এই পুজোয়।
ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন (Narad Puja 2025)
পুজোর মূল দিনে নারদ মুনির মূর্তি স্থাপন করা হয়। মূর্তিতে দেখা যায় হাতে বীণা, গলায় মালা, মুখে অনন্ত হাসি। পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণে শুরু করেন পূজা, আর গ্রামের নারীরা প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন পরিবারের কল্যাণ ও কর্মসাফল্যের জন্য।
এই পুজো শুধু ধর্মীয় নয় এটি হয়ে উঠেছে বেকার যুবকদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, গ্রামের ঐক্যের উৎসব।
আরও পড়ুন: Gold Rate: সোনার বাজারে ধাক্কা! বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে চাঞ্চল্য!
এক গ্রামীণ সমাজের অনন্য দৃষ্টান্ত
রতনপুরের এই পুজো আজ বাংলার বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। যেখানে ভক্তি, বিশ্বাস, ও পরিশ্রম মিলে তৈরি হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। দেবর্ষি নারদ যেন আজও মর্ত্যলোকে নেমে এসে গ্রামের প্রতিটি যুবককে বলেন চেষ্টা কর, বিশ্বাস রাখ দেবতারা নিশ্চয়ই শুনবেন।”



