Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হল (Chorbagan Forensic Investigation)। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে এবার ঘটনাস্থলে পৌঁছল ফরেনসিক টিম। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে যান গোয়েন্দা প্রধান এবং হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও। ফলে চোরবাগান বিপর্যয়ের নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীদের তৎপরতা নতুন মাত্রা পেল।
হাইকোর্টের নির্দেশে SIT (Chorbagan Forensic Investigation)
চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত SIT-এর নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, রাজ্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের আধিকারিক, ডিজি-আইজি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখাই এই তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এতদিন পর ফরেনসিক পরীক্ষায় কী মিলবে? (Chorbagan Forensic Investigation)
ঘটনার বেশ কিছুদিন পর ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এতদিন পরও কি গুরুত্বপূর্ণ কোনও প্রমাণ পাওয়া সম্ভব? দীর্ঘদিন ফরেনসিক বিভাগে কাজ করা অজয়বাবুর কথায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে এখনও কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, ফরেনসিক তদন্তে কোনও কিছু আগে থেকে ধরে নেওয়া হয় না। ঘটনাস্থলে গিয়ে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে তথ্য (Chorbagan Forensic Investigation)
অজয়বাবুর মতে, এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রত্যেকেরই পোস্টমর্টেম হয়েছে। ফলে ময়নাতদন্তে পাওয়া তথ্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক টিম যে তথ্য বা প্রমাণ সংগ্রহ করবে, তার সঙ্গে পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট মিলিয়ে দেখলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: Manipur Crisis: ফের উত্তপ্ত মণিপুর, গুলিতে কুকি-জো যুবকের মৃত্যু! বাড়িতে আগুন, বাড়ছে আতঙ্ক
নতুন করে তদন্তে কি সামনে আসবে বিপর্যয়ের আসল ছবি?
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এবার ফরেনসিক তদন্ত, গোয়েন্দা বিভাগের অনুসন্ধান এবং হোমিসাইড শাখার তদন্ত একসঙ্গে এগোনোয় সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৯টি প্রাণহানির নেপথ্যে কোনও গাফিলতি, অব্যবস্থা বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না—SIT-এর তদন্তেই তার পূর্ণাঙ্গ ছবি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা।



