Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীপাবলির উৎসব (Cloud Seeding) শেষে ফের শ্বাসরুদ্ধকর বাতাসে ঢেকে গেছে দেশের রাজধানী দিল্লি। প্রতি বছরের মতো এবারও আতশবাজি, ধোঁয়া, ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর মিশ্রণে শহরের আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত কণায়। দীপাবলির কয়েকদিন পরই দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৪০০ ছাড়িয়েছে, যা “গুরুতর” পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। আনন্দ বিহার, বুরারি, ও আইটিও-র মতো এলাকাগুলিতে চোখে জ্বালা, গলায় জ্বালা, এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
কৃত্রিম বৃষ্টি (Cloud Seeding)
এই পরিস্থিতিতে দূষণ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে (Cloud Seeding) দিল্লি সরকার। আগের মতো জোড়-বিজোড় গাড়ির নিয়ম বা রাস্তা ধোওয়া নয়-এবার রাজধানীতে নামতে চলেছে কৃত্রিম বৃষ্টি। সূত্র অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই এই পরীক্ষামূলক বৃষ্টি হতে পারে। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দিল্লিতে মেঘ থাকার সম্ভাবনা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর, তাই ২৯ অক্টোবরই এই পরীক্ষার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
ক্লাউড সিডিং (Cloud Seeding)
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো (Cloud Seeding) শহরের ধুলোকণা ও বিষাক্ত বায়ুকণাকে মাটিতে নামিয়ে এনে বাতাসকে কিছুটা হলেও বিশুদ্ধ করা। রাজধানীতে এই প্রথমবার ক্লাউড সিডিং বা মেঘে রাসায়নিক প্রয়োগ করে বৃষ্টি ঘটানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
এর দায়িত্ব নিয়েছে আইআইটি কানপুর, যারা ইতিমধ্যেই বুরারি এলাকায় একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, ট্রায়াল ফ্লাইটটি আইআইটি কানপুর থেকে উড়ে মিরট, খেকরা, বুরারি ও আলিগড় হয়ে আবার ফিরে গেছে। খেকরা ও বুরারির মাঝামাঝি অঞ্চলে ক্লাউড সিডিংও করা হয়, যার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের খরচ
প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩.২১ কোটি টাকা। বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি বিশেষ বিমান উড়বে উত্তর-পশ্চিম দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে জলীয় বাষ্পে পরিপূর্ণ মেঘের উপরে সিলভার আয়োডিন, আয়োডাইজড নুন ও রক সল্টের ন্যানোপার্টিকল ছড়ানো হবে। এই রাসায়নিক মিশ্রণ মেঘে জলীয় কণাগুলিকে একত্রিত করবে, ফলে বৃষ্টিপাত ঘটবে। এই পদ্ধতিই “ক্লাউড সিডিং” নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: China Airlifter: বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক পরিবহন বিমান তৈরির পথে চিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে এটি দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। কারণ, কৃত্রিম বৃষ্টি বাতাসের ধুলোকণা ধুয়ে মাটিতে নামিয়ে দেয়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বায়ুর মান উন্নত হয়। তবে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে, তাই ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির পাশাপাশি অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপও জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


