Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে জোরদার হচ্ছে প্রস্তুতি। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। রাজ্যে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষ হতেই এখন কমিশনের পাখির চোখ বাংলার নির্বাচন। সেই প্রেক্ষিতেই ভোটের সামগ্রিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ৮ থেকে ১০ মার্চ কলকাতা সফরে আসছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ(Commission Full Bench)।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক (Commission Full Bench)
কমিশনের প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বৈঠকগুলিতে ভোটার তালিকার সর্বশেষ পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা, স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
জ্ঞানেশ কুমারের কড়া নির্দেশ (Commission Full Bench)
এর আগে ভিডিও কনফারেন্সে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar Bharti রাজ্যের প্রশাসনের উদ্দেশে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দেন।
প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে পানীয় জল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা
প্রতিটি বুথে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা
সব বুথে ওয়েব কাস্টিং বাধ্যতামূলক করতে হবে, সম্ভব না হলে ভিডিওগ্রাফির ব্যবস্থা
কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচলের প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস ট্যাগিং বাধ্যতামূলক
জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে
দ্রুত স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করণ
বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা (Commission Full Bench)
বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিপথে চালিত করা হলে তার দায় বর্তাবে রাজ্য পুলিশের উপরেই। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ, অশান্তির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হয়, ফলে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়। সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রুখতেই এবার বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস ট্যাগিং বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এর ফলে বাহিনীর গতিবিধি রিয়েল টাইমে নজরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।
৮ মার্চ শহরে আরও আধিকারিক
কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় পৌঁছনোর আগেই ৮ মার্চ শহরে আসছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এস. বি. যোশী, ডিরেক্টর মনোজ সি এবং ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়াল। তাঁরা সফরসূচি চূড়ান্ত করা, প্রশাসনিক সমন্বয়, নিরাপত্তা ও থাকার বন্দোবস্তের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবেন।
কমিশনের ফুল বেঞ্চের সম্ভাব্য কর্মসূচি
৮ মার্চ (রবিবার) রাতেই কলকাতায় পৌঁছবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
৯ মার্চ (সোমবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় ও রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবে কমিশন। প্রতিটি দলকে তাদের মতামত জানাতে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য রাখবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রায় ২৪টি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। এরপর রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
১০ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসাররাও উপস্থিত থাকবেন। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিএলও-দের সঙ্গে আলোচনা এবং সাংবাদিক বৈঠক করে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবে কমিশনের প্রতিনিধিদল।
রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই দিন ঘোষণা (Commission Full Bench)
কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, দিল্লিতে ফিরে এই সফরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কত দফায় হবে তা নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাপ্যতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির উপর। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, একদফায় ভোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আরও পড়ুন: Next Governor: আনন্দ বোসের পদত্যাগ: রাজ্যের পরবর্তী রাজ্যপাল হচ্ছেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি
কমিশনের সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ (Commission Full Bench)
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে কমিশনের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, কমিশনের এই কড়া প্রস্তুতি আদৌ কতটা সুষ্ঠু, অবাধ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে। সময়ই দেবে তার উত্তর।



