Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এবার প্রকাশ্যে হাসপাতাল নিয়ে দুর্নীতির গুরুতর ছবি। মানকুন্ডু(Mankundu)মানসিক হাসপাতালের নাম বদলে হয়েছিল “আনন্দ আশ্রম”। সেই আনন্দ আশ্রমে এবার ভুরি ভুরি বেনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য এবার একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হল।
হাসপাতালে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ(Mankundu)
হাওড়া-ব্যান্ডেল মেন লাইনের পশ্চিম পারে অবস্থিত ঐতিহাসিক মানকুন্ডু(Mankundu) মানসিক হাসপাতাল, যা পরবর্তী সময়ে “আনন্দ আশ্রম” নামে পরিচিত হয়, সেখানে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ১৯৩৯ সালে বিশিষ্ট চিকিৎসক হরনাথ বসু প্রায় ২২ বিঘা জমির উপর মানসিক রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ভগ্নদশায় থাকার পর সরকারি সাহায্যে পুরনো ভবন সংস্কার করে ষাট শয্যার তিনতলা ভবন ও নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। ট্রাস্টি দ্বারা পরিচালিত ভদ্রেশ্বর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁ রোডের এই হাসপাতাল ঘিরে এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর পরই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান সহ সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় পুরো বোর্ড ভেঙে যায়। এর জেরে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

পরিদর্শনে গিয়ে বিস্ফোরক তথ্য পেলেন বিধায়ক(Mankundu)
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চন্দননগর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ ভদ্রেশ্বর পুরসভার প্রশাসক তথা চন্দননগর মহকুমা শাসককে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে যান। তাঁর অভিযোগ, দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন এই মানসিক হাসপাতালে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থাই নেই। হাসপাতালের জমিতে শতাধিক অবৈধ দোকানঘর তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও অনেকেই কোনো দোকান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী দুলে, কপিল দেব শর্মা ও অরবিন্দ দুলেদের দাবি, টাকা জমা দিলেও পাকা দোকান তাঁরা হাতে পাননি। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরের পুকুর, গাছ, সাইকেল স্ট্যান্ড ও পরিকাঠামোয় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ বিধায়কের(Mankundu)
পুরো ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানান, যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের রেয়াত করা হবে না। হাসপাতালে বিদ্যুতের ব্যাকআপ, সিসি ক্যামেরা ও পরিশোধিত পানীয় জলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ২০২২ সালের পর থেকে হওয়া সমস্ত নিয়োগ এবং আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা হবে।

আরও পড়ুন: Bikash Ranjan Bhattacharya: আইন নয়, নির্দেশেই চলছে পুলিশ! সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন বিকাশের
বিশেষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি মহকুমা শাসকের
চন্দননগর মহকুমা শাসক আশুতোষ কুমার জানিয়েছেন, রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণ ও অন্যান্য সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। রোগীদের ওষুধ, খাবার ও পানীয় জল সংক্রান্ত বিষয়ে কোনোভাবেই আপস করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


