Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু-কাশ্মীরে ফের বড় সাফল্য পেল (Counter Terror Operation) যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী CRPF-এর যৌথ অভিযানে রাজৌরির থানামান্ডি এলাকায় খোঁজ মিলল জঙ্গিদের একটি সক্রিয় ডেরার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরক ও IED। নিরাপত্তা বাহিনী পরে ওই জঙ্গি ডেরা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেয়।
তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান (Counter Terror Operation)
সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ (Counter Terror Operation) সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাজৌরির থানামান্ডি থানার অন্তর্গত ঘন বনাঞ্চলে গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পীর পঞ্জাল রেঞ্জের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিরা গোপনে এই ডেরা তৈরি করেছিল বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর। অভিযান চলাকালীন জঙ্গিদের ব্যবহৃত আশ্রয়স্থল থেকে উদ্ধার হয় বিস্ফোরক, IED, এবং একাধিক সন্দেহজনক সামগ্রী। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঝুঁকি এড়াতে সেগুলি সেখানেই নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর (Counter Terror Operation)
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শীতের (Counter Terror Operation) মরসুমে বরফে ঢাকা সীমান্তের সুযোগ নিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে ঢুকেছে জঙ্গিদের একটি বড় দল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ৩০০ জন অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন রুট দিয়ে উপত্যকায় প্রবেশ করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরেই গোটা জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে পাহাড়ি জঙ্গল, সব জায়গাতেই তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
একাধিক সদস্য সক্রিয় (Counter Terror Operation)
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, কাশ্মীর উপত্যকায় বর্তমানে জৈশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার একাধিক সদস্য সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় লঞ্চপ্যাড তৈরি করে নিরাপত্তা বাহিনী ও অসামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের উসকানি দিয়ে এবং আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে নিজেদের দলে টানার চেষ্টাও চালাচ্ছে ওই জঙ্গি সংগঠনগুলি। এই কারণেই গ্রাম ও শহর-দুই এলাকাতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক ও অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ
এদিকে, সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক ও অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মনে করছে, এই ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমেই জঙ্গিরা নাশকতার প্রস্তুতি জোরদার করছে। এর আগের দিন উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার সোগম এলাকার পুটুসাইয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
গুলির লড়াইয়ের ঘটনা
অন্যদিকে বুধবারই জম্মু অঞ্চলের কাঠুয়ার কামাধ নালার কাছে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে। বিলাওয়ার থানার অন্তর্গত ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গিকে দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেন। খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় ২ থেকে ৩ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। তাদের খোঁজে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Delhi Cold Day: হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু দিল্লি, দিল্লিতে ‘কোল্ড ডে’, জারি হলুদ সতর্কতা
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


