Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে বন্য হাতির সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে (Elephant Population)। একদিকে এটি সংরক্ষণমূলক সাফল্যের ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে। গ্রাম, কৃষিজমি ও বনাঞ্চলের সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় মানুষ ও হাতির মুখোমুখি সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার এক ব্যতিক্রমী ও বৈজ্ঞানিক পথে হাঁটল থাইল্যান্ড।

এই প্রথম বন্য হাতির উপর গর্ভনিরোধক টিকা (Elephant Population)
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিহাসে নজির গড়ে থাইল্যান্ড সরকার এই প্রথম বন্য হাতির উপর গর্ভনিরোধক টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। বুধবার সে দেশের এক শীর্ষ বন্যপ্রাণ আধিকারিক এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ডের ত্রাত প্রদেশে তিনটি স্ত্রী বন্য হাতিকে এই টিকা দেওয়া হয়। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন অফিসের পরিচালক সুখি বুনসাং জানিয়েছেন, পূর্ব থাইল্যান্ডে বন্য হাতির জন্মহার প্রতি বছর প্রায় আট শতাংশ হারে বাড়ছে, যা জাতীয় গড় তিন শতাংশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তাঁর সতর্কবার্তা, এই হার নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে মানুষ ও হাতির সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
হাতির সংঘাত: ক্রমবর্ধমান সংকট (Elephant Population)
এক সাক্ষাৎকারে সুখি বুনসাং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা যদি এটিকে চলতে দিই, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও হাতির মধ্যে আরও সংঘাত সৃষ্টি হবে।” পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ সাল থেকে থাইল্যান্ডে মানুষ ও হাতির সংঘাতে প্রায় ২০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছে ১০০টিরও বেশি হাতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সংঘাত ঘটেছে খাদ্যের সন্ধানে হাতির লোকালয়ে ঢুকে পড়ার কারণে।
টিকা প্রয়োগের আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতি (Elephant Population)
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশুচিকিৎসকদের বিশেষ দল কোনও হাতিকেই অচেতন না করেই ডার্ট গান ব্যবহার করে দূর থেকে টিকা প্রয়োগ করেছে। এই পদ্ধতিতে হাতিদের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা কম এবং আচরণগত পরিবর্তনও হয় না। টিকা দেওয়ার পরবর্তী পর্যবেক্ষণে এখনও পর্যন্ত কোনও জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট হাতিগুলি স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে। তাদের স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি ছয় মাস অন্তর রক্ত পরীক্ষা করা হবে।

আরও পড়ুন: Ajit Pawar: শোকস্তব্ধ বারামতি, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষযাত্রা, চিরবিদায় অজিত পাওয়ারের…
আগের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ
এই সিদ্ধান্ত একেবারে হঠাৎ নেওয়া হয়নি। দু’বছর আগে চিয়াং মাইয়ে সাতটি বন্দী হাতির উপর পরীক্ষামূলকভাবে এই গর্ভনিরোধক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল মিলতেই এবার বন্য হাতিদের ক্ষেত্রেও এই কর্মসূচি চালু করা হলো। বন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মে মাসে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই অন্যান্য অঞ্চলের বন্য হাতিদের আরও ১৫টি ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষণের দায়িত্ব
এশিয় হাতি, যা থাইল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন)-এর তালিকায় বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডে বন্য হাতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০০-এর কিছু বেশি। গত বছর সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার হাতি এখনও বন্দিদশায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গর্ভনিরোধক টিকা প্রয়োগ একদিকে যেমন মানুষের প্রাণ ও জীবিকা রক্ষার উদ্যোগ, অন্যদিকে তেমনই হাতিদের সুরক্ষার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



