Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন, আমদানি করা ব্র্যান্ডেড ও প্যাটেন্ট করা ওষুধের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে(US Tariff War)। তবে যে সব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করবে, তারা এই শুল্ক থেকে ছাড় পাবে। এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য ঘরোয়া উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশি নির্ভরতা কমানো।
সিদ্ধান্তের মূল প্রভাব (US Tariff War)
ঘোষণা অনুযায়ী, এই শুল্ক কেবলমাত্র ব্র্যান্ডেড ওষুধের উপর কার্যকর হবে(US Tariff War)। এর ফলে জেনেরিক ওষুধ, যা প্যাটেন্ট-মুক্ত ও তুলনামূলক সস্তা, সরাসরি এর আওতায় পড়ছে না। তবে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ভারতকে ঘিরে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত মোট ওষুধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে ভারত। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই জেনেরিক ওষুধ। তাই আপাতত ভারতের ওষুধ রপ্তানি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতামত(US Tariff War)
ড. ভি কে বিজয়কুমার, চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট, জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস(US Tariff War) জানালেন,
“ভারত যেহেতু মূলত জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করে, তাই অবিলম্বে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে ঘোষণাটি শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে যদি শুল্ক জেনেরিক ওষুধেও প্রযোজ্য হয়, তবে ভারতের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।”
কান্তি বাথিনি, ওয়েলথমিলস সিকিউরিটিজের ডিরেক্টর অব ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি বলেন,
“অধিকাংশ ভারতীয় রপ্তানি জেনেরিক হলেও যদি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপর শুল্ক বসে, তাহলে মার্কিন বাজারে স্বাস্থ্য খরচ বেড়ে যাবে এবং কোম্পানিগুলির লাভ কমে যাবে। আপাতত মাঝারি মেয়াদে ভারতীয় ফার্মার অবস্থা নিরপেক্ষ বলা যায়।”

আরও পড়ুন : Calcutta High Court : পার্থ-র জামিনের আবেদনের মামলার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট, পুজোর আগে মুক্তি?
রাহুল আহলুওয়ালিয়া, ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা-ডিরেক্টর বলেন,
“ভারতের প্রধান রপ্তানি জেনেরিক হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রভাব কম। তবে ভবিষ্যতের জন্য এটি উদ্বেগজনক সংকেত। আমাদের দ্রুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়া উচিত।”
ভারতের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব(US Tariff War)
ফার্মাসিউটিক্যালস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের (US Tariff War)মোট ওষুধ রপ্তানির ৩৫ শতাংশই যায় মার্কিন বাজারে, যার পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (FY25 অনুযায়ী)।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান চয়েস ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজ সতর্ক করেছে,
“যদিও শুল্ক কেবল ব্র্যান্ডেড ওষুধে সীমাবদ্ধ, তবে জটিল জেনেরিক বা বিশেষ ওষুধের উপরও এটি কার্যকর হতে পারে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর কোম্পানিগুলি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছে, তাদের জন্য এটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।”
আরও পড়ুন : Amit Shah Visit : দুর্গাপুজোর হাত ধরে জনসংযোগে বিজেপি,শাহের সফরে কি রাজ্য কমিটির ঘোষণা?
স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে (US Tariff War)
ট্রাম্পের নতুন নীতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে ঠিকই, তবে তা আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে(US Tariff War)। ভারতীয় ফার্মা শিল্প আপাতত সুরক্ষিত থাকলেও ভবিষ্যতে জেনেরিক ওষুধে শুল্ক বসানো হলে বড় ধাক্কা আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতকে এখনই কৌশল নিতে হবে—
- যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ইউনিট স্থাপনে জোর দেওয়া
- বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ওষুধ বাণিজ্যের সমীকরণে নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা করেছে।


