Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুক্রবার ভোর চারটে নাগাদ গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় (Deadliest Tsunami)। ক্ষয়ক্ষতির তেমন খবর না মিললেও এই কম্পন বহু মানুষের মনে ফের একবার ভয়াবহ কিছু স্মৃতি উসকে দেয়। কচ্ছ মানেই ২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প, আর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ মানেই ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর মানব সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দিন। ভূমিকম্পের হালকা কাঁপুনিতেই মনে পড়ে যায় সেই ভয়াল সকাল, যেদিন ভূকম্পনের পর সমুদ্র নিজেই হয়ে উঠেছিল মৃত্যুর অস্ত্র।

২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প (Deadliest Tsunami)
২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি গুজরাটের ভুজ ও কচ্ছ অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু, লক্ষাধিক আহত, অসংখ্য গৃহহীন এই ভূমিকম্প কচ্ছকে চিরদিনের জন্য ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের তালিকায় তুলে আনে। সেই স্মৃতি এখনও কচ্ছবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম। তাই শুক্রবার ভোরের কম্পন অনেককেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই বিভীষিকাময় দিনে।

যে দিন কেঁপে উঠেছিল গোটা বিশ্ব (Deadliest Tsunami)
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ভারতীয় সময় সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ, ভারত মহাসাগরের গভীরে সংঘটিত হয় ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৯.১ থেকে ৯.৩। ভূকম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে সমুদ্রের তলায়। এই ভূমিকম্প শুধু মাটি কাঁপায়নি এটি সৃষ্টি করেছিল বিশাল জলপ্রাচীর, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু নিয়ে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের উপকূলে।
সমুদ্র যখন মৃত্যুর ঢেউ হয়ে ওঠে (Deadliest Tsunami)
ভূমিকম্পের জেরে সমুদ্রতলে ব্যাপক স্থানচ্যুতি ঘটে। সেই শক্তিই রূপ নেয় ভয়াবহ সুনামিতে। ১০ থেকে ৩০ মিটার উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ে একের পর এক দেশে। এই সুনামি পরিচিত হয়ে ওঠে, ভারত মহাসাগরের সুনামি, আন্দামান সুনামি, বক্সিং ডে সুনামি, একই দিনে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় উপকূলবর্তী শহর, গ্রাম, পর্যটন কেন্দ্র।

১৪টি দেশ, এক অভিন্ন ট্র্যাজেডি (Deadliest Tsunami)
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্তত ১৪টি দেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মায়ানমার, সোমালিয়া-সহ আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং তামিলনাড়ুর উপকূল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে জনপদ মুছে যায় মানচিত্র থেকে।
ধ্বংসের ভয়াবহ পরিসংখ্যান (Deadliest Tsunami)
এই সুনামিতে সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৯৮ জনের। বেসরকারি ও গবেষণাভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ২.৩ থেকে ২.৫ লক্ষ। এছাড়াও, প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, লক্ষাধিক মানুষ চিরতরে ঘরছাড়া হন, অসংখ্য শিশু অনাথ হয়ে পড়ে, এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয় এর প্রতিটিই এক একটি ভাঙা জীবনের গল্প।
বেঁচে যাওয়া মানুষ ও আজীবনের ক্ষত (Deadliest Tsunami)
যাঁরা কোনওভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আবার এমনও ছিলেন, যাঁরা শারীরিকভাবে অক্ষত থাকলেও মানসিকভাবে আজীবনের জন্য ক্ষতবিক্ষত হয়ে যান। ঢেউয়ের শব্দ, সমুদ্রের গর্জন, কিংবা হঠাৎ কোনও কম্পন সবই আজও তাঁদের আতঙ্কিত করে তোলে। ২০০৪ সালের সেই দিনের স্মৃতি তাঁদের কাছে এখনও জীবন্ত বিভীষিকা।

আরও পড়ুন:Vaibhav Sooryavanshi: বৈভবকে বিশেষ সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুপ্রেরণার বার্তা
প্রকৃতির সামনে মানুষের অসহায়তা
২০০৪ সালের সুনামি মানব সভ্যতাকে নতুন করে শিখিয়েছিল প্রযুক্তি, উন্নয়ন, শক্তি সব কিছুর পরেও প্রকৃতির সামনে মানুষ কতটা অসহায়। সেই ঘটনার পর সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে, সচেতনতা বেড়েছে। তবু প্রকৃতির রোষ পুরোপুরি এড়ানো যায় না।



