Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির আগমন মানেই উন্মাদনা (Raj Chakraborty)। বয়স, পেশা, রাজনৈতিক মত সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একত্রিত হয় ফুটবলের আবেগে। সেই আবেগের মধ্যেই সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। মেসির পাশে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই শুরু হয় কটাক্ষ, বিদ্রুপ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন তাঁর স্বামী, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।

মিট অ্যান্ড গ্রিট থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোল (Raj Chakraborty)
শনিবার সকালে কলকাতার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শুভশ্রী। সেখানেই লিওনেল মেসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ছবি তোলা হয়। পরে তাঁকে স্টেডিয়ামেও দেখা যায়। কিন্তু সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় প্রশ্ন কেন তিনি সেখানে ছিলেন, কী যোগ্যতায় ছবি তুললেন, সাধারণ দর্শকেরা যখন প্রবেশ করতে পারলেন না, তখন একজন অভিনেত্রী কীভাবে সেই সুযোগ পেলেন? এই প্রশ্ন থেকেই দ্রুত গড়িয়ে পড়ে ব্যক্তিগত কটাক্ষে। অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন নারী হিসেবেই আক্রমণের শিকার হন শুভশ্রী। বিষয়টি আর মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ক্রমশ হয়ে ওঠে বিদ্বেষপূর্ণ ট্রোলিং।
প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া (Raj Chakraborty)
স্ত্রীর বিরুদ্ধে চলা কটাক্ষে নীরব থাকেননি রাজ চক্রবর্তী। আগেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খলা নিয়ে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ক্ষোভ ছিল আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে। রাজ লেখেন, যুবভারতীর অরাজগতা শুধু অনভিপ্রেত নয়, তা ফুটবল এবং ফুটবলপ্রেমী বাঙালির অসম্মান। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, তা সত্ত্বেও এত বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে কেন প্রস্তুতির ঘাটতি রয়ে গেল এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আয়োজকেরা কি মেসির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না? বাঙালির আবেগ আহত হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। এই মন্তব্যের পরও কটাক্ষ থামেনি। বরং আক্রমণের তীব্রতা বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সেই ট্রোলিং ও অপমানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধেই টিটাগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজ চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন: Lionel Messi: যুবভারতীতে তাণ্ডব, অনুপ্রবেশ! শতদ্রুর পর গ্রেফতার আরও ২
সেলিব্রিটি মানেই কি নিশানা?
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সেলিব্রিটি হলেই কি সব কিছুর দায় নিতে হবে? কোনও সরকারি নিয়ম ভেঙে নয়, আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করাই কি অপরাধ? সাধারণ দর্শকের ক্ষোভ যদি থাকে, তবে তা কি একজন অভিনেত্রীর দিকে ধেয়ে যাওয়া উচিত, না কি প্রশাসন ও আয়োজকদের দিকে? সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সীমা লঙ্ঘনের প্রবণতাও। সমালোচনা আর কটাক্ষের মধ্যে পার্থক্য ক্রমশ মুছে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী সেলিব্রিটিদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণ অনেক সময়ই ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।
মেসির আগমন বাঙালির কাছে শুধুই একটি ইভেন্ট নয়, তা আবেগের উৎসব। সেই উৎসবে বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থা এবং বাছবিচারহীনতার অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ক্ষোভ যদি ভুল ঠিকানায় গিয়ে পড়ে, তবে তা সমস্যার সমাধান তো করেই না, বরং নতুন সমস্যার জন্ম দেয়। রাজ চক্রবর্তীর অভিযোগ দায়ের আসলে একটি বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় সব কিছু মেনে নেওয়া যায় না। কটাক্ষের নামে অপমান, হেনস্থা এবং বিদ্বেষের বিরুদ্ধে আইন আছে, এবং প্রয়োজনে তার প্রয়োগ হবে।



