Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তোলাবাজি, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং একাধিক ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্ত ক্রমশ আরও গভীরে পৌঁছাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলছে, যার সঙ্গে একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Debraj Chakraborty)।
এবার সিটের নজরে ৩০-এর বেশি জনপ্রতিনিধি (Debraj Chakraborty)
তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবার ৩০ জনেরও বেশি জনপ্রতিনিধিকে নজরে রেখেছে বলে সূত্রের খবর। এদের মধ্যে বিধাননগর পৌরনিগমের একাধিক বর্তমান কাউন্সিলর যেমন রয়েছেন, তেমনই দক্ষিণ দমদম পৌরসভার কয়েকজন জনপ্রতিনিধির নামও তদন্তের আওতায় এসেছে। এছাড়াও রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁদের আর্থিক বা প্রশাসনিক কোনও যোগাযোগ ছিল কি না এবং বিভিন্ন কাজের বরাত বা আর্থিক লেনদেনে তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না।
ইতিমধ্যেই গ্রেফতার চার ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর (Debraj Chakraborty)
তদন্তের অগ্রগতিতে ইতিমধ্যেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চারজন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যা তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। সেই সূত্র ধরেই এখন আরও বিস্তৃত পরিসরে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও তদন্তকারী মহলের ইঙ্গিত।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজের নেপথ্যে কারা? (Debraj Chakraborty)
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজ পরিচালিত হত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন প্রকল্প, নির্মাণকাজ, সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে কারা মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে কি বিভিন্ন কাজের বরাদ্দ দেওয়া হত এবং তার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কতটা।
তল্লাশিতে মিলেছে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Debraj Chakraborty)
দেবরাজ চক্রবর্তীর বাড়ি ও ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে উল্লেখযোগ্য কোনও অর্থ নেই। তবে ব্যাঙ্কের লেনদেনের নথি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে, অর্থাৎ নির্বাচনের আগে, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং পরে কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কালো টাকায় জমি কেনার অভিযোগ
শুধু ব্যাঙ্ক লেনদেনই নয়, তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে, যার ভিত্তিতে সন্দেহ করা হচ্ছে যে বিপুল পরিমাণ অঘোষিত অর্থ ব্যবহার করে একাধিক জমি কেনা হয়েছিল। সেই জমিগুলির প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে জমির নথি, রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
টানা তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ (Debraj Chakraborty)
গতকাল রাতে বিশেষ তদন্তকারী দল প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য কালো টাকার উৎস, সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কার কার মাধ্যমে সেই অর্থ লেনদেন হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়, আর্থিক নথি এবং একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে দেবরাজের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

ট্রেল খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা (Debraj Chakraborty)
তদন্তকারী সংস্থা এখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল পেমেন্ট, সম্পত্তির নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল ট্রেল বিশ্লেষণ করছে। প্রয়োজন হলে আরও একাধিক জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে আর্থিক অনিয়ম, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের একাংশের অনুমান।
আরও পড়ুন: Abhisek Banerjee: কণ্ঠস্বরের নমুনা মামলায় অস্বস্তিতে অভিষেক, দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ
তদন্তের দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের
দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। তদন্তের আওতা আরও বিস্তৃত হলে নতুন করে আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম সামনে আসতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।



