Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন একদিকে বিপুল সম্ভাবনার আলোচনা, ঠিক সেই সময়েই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন টেসলা ও স্পেসএক্স কর্তা এলন মাস্ক (Elon Musk)। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি সরাসরি ChatGPT-কে ‘দৈত্য’ বলে আক্রমণ করেছেন। মাস্কের অভিযোগ এই এআই চ্যাটবট নাকি খুন ও আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধে মানুষকে প্ররোচিত করছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আচমকা কেন এমন বিস্ফোরক মন্তব্য? এর নেপথ্যে কী রয়েছে?

আদালতের দরজায় মার্কিন নাগরিক (Elon Musk)
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রৌঢ়ের অভিযোগ। সম্প্রতি তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেন, ChatGPT-এর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি খুন ও আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে এআই চ্যাটবটের কাছে পরামর্শ চাইছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই কথোপকথন নাকি তাঁকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এখনও বিচারাধীন, তবুও বিষয়টি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা (Elon Musk)
এখানেই থেমে নেই বিতর্ক। গত বছর উত্তর-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায়ও ChatGPT-এর নাম জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওই মহিলা এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিয়েছিলেন। এছাড়াও গত আগস্টে এক ভয়াবহ ঘটনায়, এক প্রৌঢ় নিজের মাকে খুন করে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। তদন্তে উঠে আসে, মৃত্যুর আগে প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি নিয়মিত দীর্ঘ সময় ChatGPT-এ কথোপকথনে যুক্ত ছিলেন। যদিও সরাসরি দায় প্রমাণ হয়নি, তবুও এই ঘটনাগুলি নতুন করে এআই-এর নৈতিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

‘সত্য-সন্ধানী হও এআই’ (Elon Musk)
এই প্রেক্ষাপটেই এলন মাস্কের বিস্ফোরক মন্তব্য। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তাহলে তা মানব সভ্যতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি এআই-কে ‘সত্য-সন্ধানী’ (truth-seeking) হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক সীমারেখা উপেক্ষা করলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। মাস্ক বহুদিন ধরেই এআই-এর ঝুঁকি নিয়ে সরব। তাঁর মতে, অন্ধভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা মানুষের বিচারবুদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে।
পুরনো সম্পর্ক, নতুন দ্বন্দ্ব (Elon Musk)
এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এলন মাস্ক ও ওপেনএআই-এর বর্তমান প্রধান স্যাম অল্টম্যানের সম্পর্ক। ২০১৫ সালে দু’জন মিলেই ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল মানবকল্যাণে নিরাপদ এআই তৈরি করা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মতানৈক্য তৈরি হয়। মাস্ক অভিযোগ করেন, ওপেনএআই তার মূল আদর্শ থেকে সরে এসে বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলেই তিনি সংস্থা ছাড়েন। তারপর থেকেই দু’জনের মধ্যে আইনি লড়াই, প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ ও মতবিরোধ চলছেই। এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে শুধু প্রযুক্তি শিল্পেই নয়, মার্কিন রাজনীতিতেও।
আরও পড়ুন: Indo UAE: সংক্ষিপ্ত ভারত সফরে আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট, উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রধানমন্ত্রীর
প্রশ্নের মুখে এআই-এর দায় ও নিয়ন্ত্রণ
এলন মাস্কের মন্তব্যের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এআই কি মানুষের সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী হতে পারে? নাকি এআই কেবল একটি টুল, যার ব্যবহার নির্ভর করে মানুষের ওপর? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই কখনওই সরাসরি অপরাধের নির্দেশ দিতে পারে না, কারণ সেখানে নানা সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। তবে মানসিকভাবে দুর্বল বা বিপর্যস্ত মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ কথোপকথন ভুল ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করতে পারে এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



