Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সপ্তাহ খানেক আগে দিল্লি বিমানবন্দরে ভিসার নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেরত পাঠানো হয় হিন্দি স্কলার ফ্রাঞ্চেস্কো ওরসিনি–কে (Foreign Hindi Scholar)। হংকং থেকে দিল্লি আসার পরই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটকায়। অভিযোগ, চলতি বছরের মার্চ মাসেই তাঁর নাম ছিল ইমিগ্রেশন ব্ল্যাকলিস্টে। ফলে তাঁকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওরসিনি এসেছিলেন দিল্লির একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে। কিন্তু বিমানবন্দরে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যকর নয়, কারণ পূর্বে তিনি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন। যদিও একটি সূত্রের দাবি, তাঁর কাছে তখনও পাঁচ বছরের জন্য বৈধ ই–ভিসা ছিল।

মেধার চেয়ে ‘নিয়ম’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ? (Foreign Hindi Scholar)
ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। প্রথমে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর লেখা এক সংবাদপত্রের কলামে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর যুক্তি, “যেখানে ভিসার অনুমতি দেওয়া দেশের কর্তব্য, সেখানে একজনের মেধা ও অবদানকে শুধুমাত্র নিয়মকানুনের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। এতে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।” স্বপনের এই মন্তব্যই আগুনে ঘি ঢালে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট ভাইরাল হতেই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
শশী থারুরের তীব্র সমালোচনা (Foreign Hindi Scholar)
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এক্স (টুইটার)–এ সেই পোস্টটি রি–শেয়ার করে লেখেন, “আমি স্বপনের সঙ্গে একমত। একজন বিদেশি অধ্যাপককে একটি তুচ্ছ নিয়মভঙ্গের কারণে দেশে ঢুকতে না–দেওয়া ভারতের উদার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঘাত করে। এটি বিদেশি সংবাদপত্রের নেতিবাচক লেখার থেকেও বেশি লজ্জাজনক। থারুরের বক্তব্য, ভারতের প্রশাসনিক চিন্তাধারা আরও উদার ও প্রগতিশীল হওয়া উচিত।
ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহের ক্ষোভ (Foreign Hindi Scholar)
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহও। তাঁর মন্তব্য, “প্রফেসর ওরসিনি ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতম সেরা পণ্ডিত। তাঁর গবেষণা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। তাঁকে তুচ্ছ যুক্তিতে ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের আত্মবিশ্বাসহীনতা ও ভয়কেই প্রকাশ করে।”

কে এই ফ্রাঞ্চেস্কো ওরসিনি? (Foreign Hindi Scholar)
ইতালির বাসিন্দা ও বর্তমানে লন্ডনে বসবাসরত প্রফেসর ফ্রাঞ্চেস্কো ওরসিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটির School of Oriental and African Studies (SOAS)–এর হিন্দি সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক।এর আগে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। হিন্দি সাহিত্য, অনুবাদ, এবং উত্তর ভারতের সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃত গ্রন্থ রয়েছে।
আরও পড়ুন: Shootout in Kolkata: ভোরবেলার গুলি! কে এই মৌসুমী হালদার, কেন চলল হামলা?

প্রশাসনের সাফাই
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “ওরসিনি পূর্বে ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়ম ভেঙেছিলেন। ফলে আন্তর্জাতিক ভিসা আইন অনুযায়ী তাঁকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হয়। এতে কোনও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নেই।” তবে এই যুক্তিতে অনেকেই সন্তুষ্ট নন। শিক্ষাবিদদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভারতের একাডেমিক স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



