Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওড়িশা বন বিভাগের ব্যয় নিয়ে চরম বিতর্ক (Forest Dept Controversy)! ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ওড়িশার বন, পরিবেশ ও ক্লাইমেট চেঞ্জ দপ্তর প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫১টি নতুন গাড়ি কেনা ও সেগুলির আধুনিকীকরণ করায় প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, গাড়ি কেনা ও কাস্টমাইজেশনের পুরো প্রক্রিয়াতেই আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
মূল বিতর্কের কেন্দ্র (Forest Dept Controversy)
সূত্রের খবর, বন্যপ্রাণী নজরদারি, গভীর জঙ্গল ও দুর্গম (Forest Dept Controversy) বনাঞ্চলে টহলদারি, চোরা শিকারীদের রুখতে এবং বনরক্ষীদের দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় করে ৫১টি থার SUV কেনে ওড়িশা বন বিভাগ। তবে মূল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এই গাড়িগুলির মডিফিকেশনের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ।
নথি অনুযায়ী, গাড়িগুলিকে আরও আধুনিক ও দুর্গম অঞ্চলে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, গাড়ির কাস্টমাইজেশনের জন্য এত বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে অর্থ দপ্তরের আগাম অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সরকারি নিয়ম মেনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না।
অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নেওয়া হবে না (Forest Dept Controversy)
এই প্রসঙ্গে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী গণেশরাম সিং খুন্তিয়া (Forest Dept Controversy) জানিয়েছেন, বিভাগীয় কাজের প্রয়োজনে কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে কোনওভাবেই অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “গাড়িগুলিতে অতিরিক্ত আলো, ক্যামেরা, সাইরেন, বিশেষ টায়ার এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম বসানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন এই পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে এবং এগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে আদৌ কতটা জরুরি, তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। যদি কোনও খরচ অপ্রয়োজনীয় বা অনুমোদনহীন বলে প্রমাণিত হয়, তা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন
বন দপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গভীর জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষা এবং চোরা শিকার রোধের কাজে এই আধুনিক ফিচারগুলি অত্যন্ত জরুরি। জানা গিয়েছে, গাড়িগুলির আধুনিকীকরণে মোট ২১টি অতিরিক্ত আইটেম ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির সামনে ও ২ পাশে শক্তিশালী মেটাল বাম্পার, পাথুরে ও উঁচু-নিচু রাস্তায় চলার জন্য থার-এর সাধারণ চাকার বদলে বিশেষ স্টিল হুইল, পাশাপাশি উন্নত আলো ও নজরদারি সরঞ্জাম।
অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক
তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এত বড় অঙ্কের কাস্টমাইজেশন খরচের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সরকারের উচ্চস্তরের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই অনুমোদন আদৌ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। রাজ্য সরকারের এক ঊচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশেষ নিরীক্ষায় খতিয়ে দেখা হবে— গাড়ি কেনা ও কাস্টমাইজেশনের সময় আর্থিক বিধি ও সরকারি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, অর্থ দপ্তরের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও বহিরাগত সংস্থা বা ঠিকাদার অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Weather Update: বড়দিনে জাঁকিয়ে পড়বে শীত, কাঁথা-কম্বল রেডি তো?
সব মিলিয়ে, ওডিশা বন বিভাগের গাড়ি কেনা ও আধুনিকীকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজ্য প্রশাসনে নতুন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ নিরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী


