Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: প্রয়াত ক্যারিবিয়ান (Garfield Sobers Death) কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স। ৮৯ এ থামলেন ৩৬৫ নট আউট! শোকস্তব্ধ বিশ্ব ক্রিকেট। তাঁর কীর্তি বিশ্ব ক্রিকেটের সোনালী ইতিহাসে চিরস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে।
বিশ্ব ক্রিকেটে ইন্দ্র পতন (Garfield Sobers Death)
বিশ্ব ক্রিকেটে ইন্দ্র (Garfield Sobers Death) পতন। প্রায়ত হলেন কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড (গ্যারি) সোবার্স। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দু’সপ্তাহ পরই ছিল নব্বইতম জন্মদিন। তার আগেই এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার।
বিশ্ব ক্রিকেটে অমর (Garfield Sobers Death)
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটের পাশাপাশি বল (Garfield Sobers Death) হাতেও বাইশ গজে ফুল ফুটিয়েছেন গ্যারি। কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান তাঁকে ‘ফাইভ ইন ওয়ান’ ক্রিকেটার বলে সম্বোধন করতেন। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ওভারের ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। বাইশ গজে তাঁর গড়া অসংখ্য কীর্তির জন্য তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে অমর হয়ে থাকবেন।
১৯৩৬ সালে ব্রিজটাউনে জন্ম গ্যারি (Garfield Sobers Death) সোবার্সের। ১৯৫৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক। তাঁর বিরল প্রতিভার কারণে দ্রুত ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় টেস্ট দলে অভিষেক হয়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট শতরান করেন। ৩৬৫ রানের ইনিংস খেলে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন টেস্ট ক্রিকেটে এটাই কোনও ক্রিকেটারের এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ছিল। ৩৬ বছর পর, ১৯৯৪ সালে সেই রেকর্ড ভাঙেন তাঁর দেশেরই আরেক কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা।
সোবার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলে ৮০৩২ রান করেছেন। শতরান ২৬টি, অর্ধশতরান ৩০টি।গড় ৫৭.৭৮। বল হাতে ২৩৫টি উইকেট নিয়েছেন। গড় ৩৪.০৩। সেরা বোলিং ৭৩ রানে ৬ উইকেট। ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ৬ বার। ক্যাচ ধরেছেন ১০৯টি।
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ও তাঁর সাফল্য (Garfield Sobers Death) নজরকাড়া। ৩৮৩টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে স্যার সোবার্স ২৮,৩১৪ রান করেছেন। ব্যাটিং গড় ৫৪.৮৭। শতরান করেছেন ৮৬টি। হাফসেঞ্চুরি ১২১টি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬৫ রান করেছেন। বল হাতে নিয়েছেন ১ হাজার ৪৩ উইকেট। বোলিং গড় ২৭.৭৪। ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ৩৬ বার। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন একবার। সেরা বোলিং ৪৯ রান দিয়ে ৯ উইকেট। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ক্যাচ ধরেছেন ৪০৭টি।
নিজে পুরোনো যুগের ক্রিকেটার হলেও ভারতীয় ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর ও বিরাট কোহলি তাঁর অত্যন্ত পছন্দের ক্রিকেটার ছিলেন। ভারতীয় দল যখনই ক্যারিয়ারন সফরে গিয়েছে, সশরীরে এসে শচীন ও বিরাটের সঙ্গে দেখা করেছেন সোবার্স। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের আগে সোবার্স ভারতকে ‘কালো ঘোড়া’ বলেছিলেন। জুহুরির চোখ ভুল করেনি। সেবারই তাঁর দেশকে হারিয়েই প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কপিল দেবের ভারত।
আরও পড়ুন: World Emoji Day: আপনার স্মার্টনেসের শব্দ আপনার হাতে?
সোবার্স ছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের চির বিস্ময়। তাঁর কীর্তি এখনও বিস্ময় হয়েই থেকে যাবে। তাঁর সাফল্য বিশ্ব ক্রিকেটের সোনালী ইতিহাসে চিরস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে। উইসডেনের বিচারে তিন বার ‘লিডিং ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জেতেন সোবার্স। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর আসতেই বিশ্ব ক্রিকেটের ২২ গজে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সোবার্সের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা একজন ক্রিকেটারের মৃত্যুর খবর শুনে অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। ব্যাট ও বল হাতে তাঁর অবদান ছিল এমন এক মাপকাঠি, যা অনুসরণ ও মূল্যায়ন করে অনেকেই এই খেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথে এগিয়েছেন।’


