Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মানুষ কখনও কখনও এমন অন্ধকার গভীরতায় ডুবে যেতে পারে যা কল্পনাকেও হার মানায় (Horrifying Fantasy)। আর্মিন মেইভেসের নরখাদকতার কাহিনি এমনই এক ঘটনা, যা শুনলে মনে হবে কোনও ভৌতিক সিনেমার প্লট কিন্তু না, এই গল্প পুরোটাই বাস্তব। জার্মানির রোটেনবুর্গের শান্ত-সরল পরিবেশের আড়ালে লুকিয়ে ছিল মানুষের মনস্তত্ত্বের এক ভয়ংকরতম অধ্যায়। আর এই বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরে তৈরি হয়েছে একাধিক চলচ্চিত্র।
অশান্ত সত্যের আড়াল (Horrifying Fantasy)
১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া আর্মিন মেইভেস ছিলেন পেশায় কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদ। প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন সদালাপী, সহৃদয় ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ। মেরামত করে দিতেন গাড়ি, কেটে দিতেন লন, আর অতিথি সৎকারে ছিল তার গ্রাম্য ঐতিহ্যের ছোঁয়া। কিন্তু তার ব্যক্তিত্বের এই স্বাভাবিক মুখোশের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত, ভয়ানক প্রবৃত্তি মানুষের মাংস খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ছোটবেলায় তার মা ছিলেন অত্যন্ত নিয়ন্ত্রণকামী। এই দমবন্ধ জীবন এবং শৈশবের বিচ্ছিন্নতা তাকে ধীরে ধীরে বিকৃত কল্পনার দিকে ঠেলে দেয়। বয়স তদের সঙ্গে সঙ্গে সেই ফ্যান্টাসিগুলো অন্ধকারের গভীরতায় আরো বিস্তৃত হতে থাকে।
ইন্টারনেটে ‘স্বেচ্ছায় খাদ্য’ খোঁজা (Horrifying Fantasy)
২০০১ সালে মেইভেস “The Cannibal Café” নামে একটি ডার্ক-ফোরামে বিজ্ঞাপন দেন, “আমি চাই এক যুবক, সুস্থদেহী মানুষ, যিনি স্বেচ্ছায় খাদ্য হতে রাজি।” এমন অদ্ভুত ও ভয়াবহ বিজ্ঞাপনের জবাব দেন বার্লিনের ৪৩ বছর বয়সী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বার্ন্ড জুরগেন ব্র্যান্ডেস যিনি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। তাদের মধ্যে ইমেল আলাপ ও পরিকল্পনার পর ঠিক হয়, ব্র্যান্ডেস মেইভেসের কাছে যাবেন এবং “স্বেচ্ছায় নিজেকে উৎসর্গ” করবেন।
৯ মার্চ ২০০১ ভয়ঙ্কর রাতের সূচনা (Horrifying Fantasy)
বার্ন্ড ব্র্যান্ডেস সেদিন সন্ধ্যায় রোটেনবুর্গের ফার্মহাউসে পৌঁছোন। দু’জনের আগাম “সম্মতি” অনুযায়ী শুরু হয় মানুষের বোধের বাইরে থাকা এক অদ্ভুত রিচুয়াল, ব্র্যান্ডেসকে ঘুমের ২০টি ওষুধ ও প্রচুর অ্যালকোহল খাইয়ে অচেতন করে তোলা হয়। এরপর মেইভেস তার গোপনাঙ্গ কেটে রান্না করার চেষ্টা করেন, যা দু’জনেই খেতে চেয়েছিলেন। রক্তক্ষরণের কারণে ব্র্যান্ডেস ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছিলেন। মেইভেস তখন পাশের ঘরে বসে নির্বিকারভাবে স্টার ট্রেকের উপন্যাস পড়ছিলেন এক ভয়ঙ্কর মনোবৈকল্যের নিদর্শন। ব্র্যান্ডেস টিকে ছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অবশেষে ভোরের দিকে মেইভেস একটি বড় ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন।
বহুদিন ধরে “রান্না” (Horrifying Fantasy)
হত্যার পর যা ঘটে, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম বিভৎস অধ্যায়, ব্র্যান্ডেসের শরীর অংশে ভাগ করে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। বাকি দেহাংশ ঠান্ডা করার পাশেই ছিল একটি টেকঅ্যাওয়ে পিজা। মাথার খুলি বাড়ির বাগানে গোপনে পুঁতে রাখা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে মেইভেস জলপাই তেল, রসুন, মশলা দিয়ে রান্না করে সেই মাংস খান রেড ওয়াইনের সঙ্গে। তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, “মাংসের স্বাদ পোর্কের মতো, আর প্রতিটি কামড় যেন ব্র্যান্ডেসকে আরও কাছে টেনে আনছিল।”
কীভাবে ফাঁস হল এই ভয়ঙ্কর ঘটনা? (Horrifying Fantasy)
হত্যার পর মেইভেস ডার্ক ওয়েবে আরও কিছু “স্বেচ্ছুক খাদ্য” খুঁজতে শুরু করেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইমেলে তাকে লেখেন, “আপনি কি সত্যিই কাউকে হত্যা করেছেন?” মেইভেস সৎভাবে উত্তর দেন “হ্যাঁ” এবং ছাত্রটি তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানায়। শুরু হয় তল্লাশি, উদ্ধার হয় ভিডিও, দেহাংশ এবং ভয়ানক সব নথি।
‘সম্মতিতে মৃত্যু’ কি হত্যাকে বৈধ করে?
মামলাটি জার্মান আইনশাস্ত্রে যুগান্তকারী বিতর্কের সূচনা করে, ব্র্যান্ডেসের ‘সম্মতি’ ছিল বাস্তব, ভিডিওতে তার স্বেচ্ছার প্রমাণও রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠল মানুষ কি নিজের জীবন দেওয়ার অধিকার রাখে? “সম্মতিতে মৃত্যুবরণ” কি হত্যা নয়? প্রথম বিচার (২০০৪) মেইভেসকে দেয়, অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে ৮ বছর ৬ মাসের সাজা কিন্তু ফেডারেল কোর্ট পুনর্বিচার চায়, কারণ হত্যা ছিল যৌন-উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মেইভেস ভবিষ্যতে আবার এমন অপরাধ করতে পারেন ২০০৬ সালে তাকে দেওয়া হয় আজীবন কারাদণ্ড
আরও পড়ুন: Nepal Protest: দেশেই আছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা শুধু নির্বাচনের…
বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে নির্মিত চলচ্চিত্র
Grimm Love (2006)
জার্মান চলচ্চিত্র, আমেরিকায় মুক্তি পায় “Rohtenburg” নামে।
কাহিনী মেইভেস ও ব্র্যান্ডেসের সম্পর্ক এবং হত্যাকে কেন্দ্র করে।
ন্যায়বিচার, মনস্তত্ত্ব ও নরখাদকতার ভয়াবহ দিক তুলে ধরা হয় তীক্ষ্ণ ভঙ্গিতে।
Cannibal (2006)
মেইভেসের জীবনের ওপর আরও বাস্তবধর্মী উপস্থাপন।
কোনও অতিরঞ্জন নেই শীতল, নির্মম, প্রায় তথ্যচিত্রের মতো একটি সিনেমা।
বিভিন্ন ডকুমেন্টারি
- “Interview with a Cannibal” (2007)
- “Cannibal: The Real Story of Armin Meiwes”



