Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব এখন বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে। দ্য ল্যানসেট অবস্টেট্রিক্স, গাইনোকোলজি অ্যান্ড উইমেনস হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ৩৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ৫ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি নারী বন্ধ্যাত্বে ভুগছিলেন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৮ কোটিতে পৌঁছাতে পারে(Global Infertility)।
ল্যানসেট গবেষণায় বড় তথ্য (Global Infertility)
গবেষণাটি ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র সংজ্ঞা অনুযায়ী, এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও গর্ভধারণ না হলে তাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দেরিতে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা। উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন, আর্থিক চাপ এবং বদলে যাওয়া সামাজিক মানসিকতার কারণে অনেক নারী এখন দেরিতে বিয়ে ও মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু ৩৫ বছরের পর নারীদের ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান দ্রুত কমতে শুরু করে, ফলে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে যায় এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বন্ধ্যাত্বের হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতি এক লক্ষ নারীর মধ্যে ৫,২৫৫ জন বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত থাকলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬,৩২২ জন। এই অঞ্চলে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.৫৩ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় ০.৪৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
ভারতের জন্যও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে শহরাঞ্চলে দেরিতে মাতৃত্বের প্রবণতা বাড়ছে, অথচ আইভিএফ-সহ সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি এখনও ব্যয়বহুল এবং মূলত বড় শহরেই সীমাবদ্ধ(Global Infertility)।
চিকিৎসকদের আরও সতর্কবার্তা, বন্ধ্যাত্ব শুধু নারীদের সমস্যা নয়। পুরুষদের ক্ষেত্রেও শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যাওয়া, ধূমপান, মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দূষণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উভয়ের প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে(Global Infertility)। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রজননস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



