Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্তমান যুগে প্রায় প্রত্যেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন (Google Activity) সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন শপিং, ইমেল, কিংবা শুধু খবর পড়া সব কিছুতেই আমরা অজান্তে রেখে যাচ্ছি আমাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ডিজিটাল পদচিহ্ন। এই ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা বিজ্ঞাপন সংস্থা আমাদের অনলাইন আচরণ ট্র্যাক করে। ফলে, একদিকে সুবিধা পেলেও অন্যদিকে ডেটা চুরি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে দ্রুত। তবে সুখবর হলো চাইলে আপনি নিজেই ইন্টারনেট থেকে আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনেকাংশে মুছে ফেলতে পারেন। চলুন দেখে নিই ধাপে ধাপে কিভাবে তা করবেন।

গুগল অ্যাক্টিভিটি ডিলিট করুন (Google Activity)
প্রথম ধাপ হিসেবে গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার সমস্ত কার্যকলাপের রেকর্ড মুছে ফেলা জরুরি। যেভাবে করবেন:
- যান myactivity.google.com
- লগ ইন করুন আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে।
- এখানে আপনি দেখতে পাবেন আপনার সমস্ত কার্যকলাপ, যেমন গুগল ম্যাপ সার্চ, ইউটিউব দেখা, বা গুগল ইমেজ সার্চ।
- ডান দিকের “Delete activity by” অপশনটি বেছে নিন।
- এরপর “Last hour”, “Last day”, “All time” বা “Custom range” থেকে উপযুক্ত বিকল্প নির্বাচন করুন।
- “All time” নির্বাচন করলে গুগল পণ্যের একটি তালিকা দেখাবে (Maps, Search, YouTube ইত্যাদি)। এখান থেকে আপনি নির্দিষ্ট কার্যকলাপ মুছে ফেলতে পারবেন।
গুগলকে ভবিষ্যতে ট্র্যাক করা থেকে বিরত রাখুন (Google Activity)
পুরনো ডেটা মুছে ফেলার পর পরবর্তী ধাপ হলো নতুন ডেটা সংগ্রহ বন্ধ করা। এটি করার জন্য আপনাকে যেতে হবে গুগল অ্যাকাউন্টের ‘Activity Controls’ বিভাগে। এখানে গিয়ে বন্ধ করুন:
- Web & App Activity
- Location History
- YouTube History
এতে গুগল আপনার ভবিষ্যতের সার্চ, অবস্থান ও ভিডিও দেখা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবে না।
এটি গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অটো-ডিলিট ফিচার চালু করুন (Google Activity)
গুগল এখন ব্যবহারকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরনো ডেটা মুছে ফেলার সুবিধা দিয়েছে। যেভাবে সেট করবেন:
- যান myactivity.google.com/auto-delete
- এখান থেকে “Web & App Activity”, “Location History” বা “YouTube History” নির্বাচন করুন।
- এরপর ৩ মাস, ১৮ মাস বা ৩৬ মাসের জন্য অটো-ডিলিট সময় নির্ধারণ করুন।
এটি চালু থাকলে নির্দিষ্ট সময় পেরোলেই আপনার ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।
ফলে আপনাকে বারবার হাতে করে ডেটা ডিলিট করতে হবে না।
নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করুন (Google Activity)
আপনার সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে যদি আপনি নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করেন। এজন্য ব্যবহার করুন একটি Virtual Private Network (VPN)। VPN আপনার ইন্টারনেট সংযোগ এনক্রিপ্ট করে, ফলে কেউ সহজে আপনার অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করতে পারে না। এছাড়াও, গোপনীয়তা রক্ষাকারী সার্চ ইঞ্জিন ও ব্রাউজার ব্যবহার করুন, যেমন:
- সার্চ ইঞ্জিন: DuckDuckGo, Brave Search, Startpage
- ব্রাউজার: Tor Browser, Mozilla Firefox, Brave Browser
এই ব্রাউজার ও সার্চ ইঞ্জিনগুলো আপনার কার্যকলাপ ট্র্যাক করে না এবং কুকিজ বা ডেটা সংগ্রহও সীমিত রাখে।
আরও পড়ুন: Cyclone Mantha Update: তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা! অন্ধ্রের ঝড়ে কি কাঁপবে উত্তরবঙ্গও?
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও নিরাপত্তা আপডেট
অনেক সময় আমরা একই পাসওয়ার্ড বহু অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করি যা হ্যাকিংয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
এই অভ্যাস বদলান।
- প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
- জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন (বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নসহ)।
- প্রয়োজনে Password Manager ব্যবহার করুন, যেমন Bitwarden, 1Password বা Dashlane।
এছাড়া, Two-Factor Authentication (2FA) চালু রাখুন যাতে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড পেলেও অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারে।



