Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ‘প্রেতকথা’ খ্যাত ইউটিউবার-ইনফ্লুয়েন্সর গৌরব তপাদারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক (Gourab Tapadar)। প্রাক্তন প্রেমিকা অন্তরা দে সম্প্রতি কয়েকটি পুরনো চ্যাট, অডিও বার্তা এবং ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে আনার পর শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিষয়টি নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন গৌরব। তাঁর দাবি, যে চ্যাটগুলি সামনে আনা হয়েছে সেগুলি প্রায় দুই বছর আগের এবং তিনি সেগুলি মদ্যপ অবস্থায় পাঠিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা তপাদারের প্রকাশ্য সমর্থন নতুন মাত্রা যোগ করেছে পুরো ঘটনায়।

কীভাবে শুরু হল এই বিতর্ক? (Gourab Tapadar)
গৌরব তপাদারের জনপ্রিয়তার যাত্রা শুরু হয়েছিল কয়েক বছর আগে। গান, মোটিভেশনাল বক্তব্য এবং ভৌতিক কাহিনিভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তিনি বিপুল দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই সময় দীর্ঘদিনের বন্ধু অন্তরা দে-র সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সময়ের সঙ্গে গৌরবের জনপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনই তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। যদিও বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউই স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি, তবে দু’পক্ষের নানা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বহুদিন ধরেই সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় ছিল। পরবর্তীতে গৌরব আচমকাই নৃত্যশিল্পী প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে অন্তরা কলকাতা ছেড়ে পাহাড়ে নিজের নতুন জীবন শুরু করেন। বিভিন্ন পডকাস্টে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বললেও প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন সংযত অবস্থানই বজায় রেখেছিলেন।

প্রিয়াঙ্কার একটি পোস্ট থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত
গত ২৩ জুন স্বামী গৌরবের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন প্রিয়াঙ্কা তপাদার। সেই পোস্টে তিনি দীর্ঘ একটি ব্যক্তিগত বক্তব্য লেখেন। অন্তরার অভিযোগ, সেই পোস্টে পরোক্ষভাবে তাঁকেই নিশানা করা হয়েছে এবং তাঁকে অযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এরপরই অন্তরা ফেসবুক লাইভে এসে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ এবং গৌরবের সঙ্গে অতীতের নানা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন। পাশাপাশি তিনি গৌরবের পাঠানো কয়েকটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তা এবং চ্যাটও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্টগুলি ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন গৌরব (Gourab Tapadar)
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দীর্ঘ একটি পোস্ট করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন গৌরব তপাদার। তিনি লেখেন, “সেদিন রাতে কী একটা খারাপ মদ খেয়ে ফেললাম। ব্যাস, এক্স গার্লফ্রেন্ডকে মেসেজ করে দিলাম। তার দু’বছর পর সেই মেসেজ নিয়ে… তারপর বউয়ের কাছেও বাঁশ খেলাম। অনেক অপমান করার পর বউ বলল, ভাগ্যিস এই মেয়েটার সঙ্গে থাকোনি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ঘটনাটি বহু পুরনো এবং সেই সময়ের একটি ভুল সিদ্ধান্তকে এখন নতুন করে সামনে এনে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

তবে প্রকাশ্যে কেচ্ছা করতে অনীহা
নিজের পোস্টে রসিকতার সুরে গৌরব আরও লেখেন, “কে জানত এক্স এভাবে ফাঁসিয়ে দেবে! তাহলে ওর কেচ্ছাগুলো অনেক আগেই বলে দিতে পারতাম। যাই হোক, একজন মহিলাকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় কেচ্ছা করতে ভালো লাগবে না।” এই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, তিনি সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ না করলেও বক্তব্যে প্রাক্তনকে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে গৌরব দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এই ঘটনার কথা আগেই জানতেন এবং বিষয়টি তাঁদের সম্পর্কে কোনও প্রভাব ফেলেনি।
স্বামীর পাশে দাঁড়ালেন প্রিয়াঙ্কা (Gourab Tapadar)
গৌরবের পোস্টটি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন প্রিয়াঙ্কা তপাদার। সেখানে তিনি লেখেন, “এরপর যদি কিছু জানতে পারি, বাঁশ নিয়ে পিছনে দৌড়ব… মা-বাবার থেকে শিখেছি হাজার ভুল-ত্রুটির পরও হাতে হাত রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে। তাই এরপর বাঁশ (মনে থাকে যেন)।” প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিতর্ক যতই তীব্র হোক না কেন, তিনি প্রকাশ্যে স্বামীর পাশেই থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে বহু অনুরাগী তাঁদের সম্পর্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, আবার অনেকে সমালোচনাও করেছেন।
পাল্টা আরও চ্যাট প্রকাশ করলেন অন্তরা (Gourab Tapadar)
গৌরব ও প্রিয়াঙ্কার পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর অন্তরাও থেমে থাকেননি। তিনি আরও কিছু ব্যক্তিগত চ্যাট সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “পাকে যখন নামানো হয়েছে, আমিও দেখি আমার কী কেচ্ছা আছে। সহ্যের সীমা থাকে।” এর পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শও নিচ্ছেন। অর্থাৎ, সোশাল মিডিয়ার এই বিতর্ক ভবিষ্যতে আইনি দিকেও গড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সোশাল মিডিয়ায় দুই শিবির
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়া কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশের মতে, বহু বছর আগের ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ্যে আনা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি, যদি কোনও ব্যক্তি অন্যকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করেন, তাহলে সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট সামনে আনার অধিকারও রয়েছে। ফলে বিতর্ক এখন আর শুধুমাত্র একটি সম্পর্ক ভাঙার গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সোশাল মিডিয়ার দায়বদ্ধতা, সম্পর্কের সম্মান এবং জনসমক্ষে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের নৈতিকতা এই সমস্ত বিষয় নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।



