Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কল্যাণ দত্ত, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার (TMC Leader Arrest) আউশগ্রামে শুক্রবার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তোলাবাজি-সহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আউশগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুল লালন ওরফে ‘দাতা লালন’-কে।
আদালতে পেশ (TMC Leader Arrest)
দীর্ঘ কয়েকদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত (TMC Leader Arrest) পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করা হয়। অভিযুক্তকে থানার বাইরে আনার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক প্রকার হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
হেলমেট পরানো হয় (TMC Leader Arrest)
পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার (TMC Leader Arrest) জন্য আগে থেকেই ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। সম্ভাব্য হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আব্দুল লালনের মাথায় হেলমেট পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। তাঁকে ঘিরে তৈরি করা হয় শক্ত নিরাপত্তা বলয়। এরপর পুলিশি পাহারায় তাঁকে বর্ধমান জেলা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দৃশ্য ঘিরে আদালত চত্বর ও থানা এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজি, মারধর, ভয় দেখানো, চুরি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ছেলে আফজল রহমান ওরফে সঞ্জু-কেও। শুক্রবার দু’জনকেই একসঙ্গে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি দায়ের হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারায়। মামলার নম্বর ২০৯/২৬। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তি বা সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই আদালতের কাছে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, প্রভাব খাটানো এবং সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠছিল। যদিও এতদিন পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে বড় কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। শুক্রবারের গ্রেফতারের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইন শেষ পর্যন্ত নিজের পথেই চলেছে এবং দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একজন ব্লক সভাপতির গ্রেফতারি ঘিরে শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা বা ব্লক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আদালত পুলিশি হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করে কি না, এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের। শুক্রবারের এই গ্রেফতারি ও আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি পূর্ব বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


