Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার আকাশ যেন হঠাৎ (Heavy Rain in Kolkata) করেই ফেটে পড়ল। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে যেভাবে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি নামল, তাতে থমকে গেল জনজীবন। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, মাত্র একদিনেই শহরে বৃষ্টি হয়েছে ২৪৭.৪ মিলিমিটার-যা গত তিন সপ্তাহের মোট বৃষ্টির (১৭৮.৯ মিলিমিটার) তুলনায় ৬৯.৯ মিলিমিটার বেশি! এই মাত্রার বৃষ্টি কলকাতা শহরে ৩৯ বছর পর দেখা গেল।
আবহাওয়া দফতরের হিসেব (Heavy Rain in Kolkata)
আবহাওয়া দফতরের হিসেব বলছে, সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ২২ তারিখ (Heavy Rain in Kolkata) পর্যন্ত শহরে বর্ষা তার স্বাভাবিক ছন্দে ছিল না। বৃষ্টির ঘাটতি ছিল প্রায় ৩৫.৭ মিলিমিটার। কিন্তু মাত্র এক রাতের প্রবল বর্ষণে সেই ঘাটতির জায়গায় এখন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টি শহরের নানা অংশে জল জমিয়ে দেয়।
রেকর্ড বৃষ্টিপাত (Heavy Rain in Kolkata)
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়াতেও রেকর্ড বৃষ্টিপাত (Heavy Rain in Kolkata) হয়েছে। মৌসম ভবনের মতে, কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় ২,৬৬৩ শতাংশ বেশি! হাওড়ায় এই হার ১,০০৬ শতাংশ। এই অতিবৃষ্টির পেছনে রয়েছে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণাবর্ত। এই দুটি আবহাওয়াজনিত অবস্থান মঙ্গলবার সকালেও একই জায়গায় সক্রিয় ছিল। এর ফলেই রাতে এমন ভয়াবহ বৃষ্টি হয় শহরে। আবহবিদরা বলছেন, আরও ২ মিলিমিটার বেশি হলেই এই বৃষ্টিকে “মেঘভাঙা” বৃষ্টি বলা যেত।
অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর
১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে ২৫১ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড ছিল কলকাতায়। এবারের ২৪৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি শহরের ইতিহাসে ষষ্ঠ স্থানে পৌঁছেছে। অথচ এই বর্ষণ শহরবাসীর কাছে শুধুই রেকর্ড নয়, এক ভয়াবহ দুর্যোগও বটে। এই দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। শহরের একাধিক এলাকা, বিশেষ করে এক্সাইড মোড়, জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্তও। যানবাহনের সংখ্যা কম, দোকানপাটে নেই তেমন ভিড়।
আরও পড়ুন: Kolkata Vehicles: কলকাতার রাস্তায় বাসই শেষ ভরসা! কতদিন চলবে এই দুর্ভোগ?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি নিয়মিত কলকাতার মেয়র, মুখ্যসচিব এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি এমন বৃষ্টি আগে দেখিনি। সাত-আট জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন-এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” আপাতত বৃষ্টির গতি কিছুটা কমলেও আগামী বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। তাই সামনের দিনগুলোতেও কলকাতাবাসীকে সতর্ক থাকতেই হবে।


