Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রেমে প্রতারণা, বিশেষ করে অনলাইনে গড়ে ওঠা “রোম্যান্স স্ক্যাম” (Hokkaido)। জাপানের হোক্কাইডোর এক ৮০ বছর বয়সী একা নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে পরিচিত এক যুবকের প্রেমের জালে ফেঁসে গিয়ে তার জীবনভর সঞ্চয়ের প্রায় ১ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) হারিয়ে ফেলেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হোক্কাইডো ব্রডকাস্টিংয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেলেও সবচেয়ে বড় কথা — এই ধরনের অপরাধ বয়স্ক এবং একাকিত্বে ভুগতে থাকা মানুষদের লক্ষ করে পরিকল্পনা করা হয়।
কীভাবে হলো প্রতারণা! (Hokkaido)
খবর সূত্রে জানা যায়, ওই যুবক প্রথমে জুলাই মাসে সামাজিক মিডিয়া অ্যাপের মাধ্যমে বৃদ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় করিয়ে দেন নিজেকে একজন “মহাকাশচারী” হিসেবে — একটি অদ্ভুত কিন্তু আবেগপ্রবণ পরিচয় যা নেটকথ্য ও কল্পনাকে একসঙ্গে জোড়ায়। দিনের পর দিন কথার মাধ্যমে বিশ্বস্ততা গড়ে ওঠে; সম্পর্কটি প্রেমের আঘাতে রূপ নেয় এবং বৃদ্ধা বিশ্বাস করে নেন যে তিনি যে মানুষটাকে ভালোবাসেন, তিনি সত্যিই তার প্রেমিক।
বৃহদাংশেই প্রতারণার টেকনিক একইরকম — প্রথমে বিশ্বাস অর্জন, তারপর যেকোনো আকস্মিক “জরুরী” ঘটনা দেখিয়ে তাত্ক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দাবি। এই ঘটনাতেও প্রতারক একটি অদ্ভুত কাহিনি শেয়ার করে দাবি করেন যে তিনি মহাকাশযানেই আটকে পড়েছেন এবং বেঁচে ফিরে আসার জন্য অক্সিজেন কেনার দরকার আছে। বৃদ্ধার আবেগপ্রবণ অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে, তিনি নির্দেশ দেন পাঁচটি আলাদা দোকানে গিয়ে প্রিপেইড পদ্ধতিতে টাকা পাঠাতে — এবং ইতি মধ্যেই ১ মিলিয়ন ইয়েন স্থানান্তর হয়ে যায়।
কি ছিল স্থানীয় সংবাদের বক্তব্য! (Hokkaido)
টাকা স্থানান্তর হওয়ার পর কিছু সময় পরই প্রতারণা বুঝতে পেরে বৃদ্ধা বিষয়টি পরিবারের সাথে ভাগ করলে তারা দ্রুত পুলিশকে জানান। পুলিশ তদন্তের ধাঁচ দেখে এটিকে “শক্তপায়চারী পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে করা অনলাইন প্রেম প্রতারণা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং জানিয়েছে যে এই ধরনের অপরাধ সাধারণত একাকিত্বে ভোগা বয়স্ক মানুষদের লক্ষ্য করে সাজানো হয়। স্থানীয় পুলিশ আরও সতর্কবার্তা জারি করেছেন: যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত কেউ আকস্মিকভাবে অচেনা বা অস্বাভাবিক কাহিনি শুনিয়ে টাকা চাইতে শুরু করে, তাহলে সজাগ থাকা উচিত।
কেন বয়স্করা সহজে শিকার হন! (Hokkaido)
- একাকিত্ব ও সঙ্গচাহিদা: নিয়মিত কথোপকথন ও আবেগগত সম্পর্ক গড়ে ওঠার সাথে ব্যক্তি মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।
- তাড়াহুড়ো করানো: প্রতারক অল্প সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে বললে ভুক্তভোগী সতর্ক হওয়ার আগেই কাজ করে ফেলে।
- জরুরি বা জীবন-মৃত্যুর কাহিনি: “অক্সিজেন দরকার” বা “অন্তরীক্ষে আটকা” জাতীয় জরুরী কাহিনি মানুষের দয়া ও তাত্ক্ষণিক সহানুভূতি টেনে আনে।
- অর্থপ্রদান পদ্ধতির ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার: প্রিপেইড কার্ড, কনভেনিয়েন্স স্টোরের ভাউচার কিংবা পে-এপ্রিলেট সিস্টেম ব্যবহার করলে লেনদেন ট্রেস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সতর্কতার লক্ষণ! (Hokkaido)
১) পরিচিত বা নতুন কারোর সঙ্গে খুব দ্রুত আবেগগত সম্পর্ক গড়ে ওঠা
২) পরিচয় কখনও যাচাই না করা — ভিডিও কল বা বাস্তব তথ্য চাওয়া এড়ানো
৩) তড়াৎ টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া
৪) অন্য কাউকে বুঝে না-শেয়ার করার অনুনয় বা গুপ্ততা দাবি
যদি প্রতারণার শিকার হন! (Hokkaido)
- সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশকে রিপোর্ট করুন এবং ঘটনার সবকিছু (চ্যাট লগ, লেনদেনের রশিদ, স্টোর/ভাউচারের বিবরণ) জমা দিন।
- যেখানে টাকা পাঠানো হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠান/শপ বা উপ-পরিবহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেন বাতিল/রিভারসের চেষ্টা করুন (যদি সম্ভব)।
- ব্যাংক/পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত অবহিত করুন — তাদের প্রতারণা বিভাগে রিপোর্ট করতে বলুন।
- সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত প্রোফাইলটি রিপোর্ট ও ব্লক করুন যাতে আরও ক্ষতি না হয়।
- পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের মানসিক সহায়তা দিন; মানসিক ভাবে যে আঘাত লেগেছে তা স্বীকৃতি দিয়ে প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং করান।
- ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য কমিউনিটিতে ও প্রতিবেশীদের কাছে এই ঘটনা জানিয়ে দিন — সচেতনতা বড় প্রতিরোধ।
আরও পড়ুন: Earthquake: ফের আরও একবার জোরালো ভূমিকম্পের কবলে দেশ, সংকটে জনজীবন
সামাজিক দায়বদ্ধতা!
এ ধরনের প্রতারণা রোধ করতে শুধুই ব্যক্তিগত সতর্কতা যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তি কোম্পানি, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কেরও ভূমিকা অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রয়োজনীয় তড়িৎ যাচাই-বাছাই, সন্দেহভাজন প্রোফাইল শনাক্তকরণ এবং বয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ রিপোর্টিং ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত। পরিবারগুলোকেও বৃদ্ধ সদস্যদের অনলাইন ব্যবহার, অপরিচিতদের সাথে আলাপ ও আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ ও মনিটরিং করা দরকার।



