Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কামালগাজি এলাকায় অবস্থিত আরতি হাসপাতালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ার পরই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর (Hospital License Cancelled)। অভিযোগ হাসপাতালের ভিতরে ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো নেই। দীর্ঘদিন ধরেই ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসা পরিষেবা চালাচ্ছিল হাসপাতালটি। স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক অফিসার জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ তারিখ থেকে নতুন রোগী ভর্তি করা যাবে না, মঙ্গলবারের মধ্যে ভর্তি রোগীদের ছেড়ে দিতে হবে, এর পর হাসপাতালের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ছাড়পত্র পেতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে “অযথা টালবাহানা” ও “হয়রানির শিকার” হতে হয়েছে। তবে প্রশাসনিক শীর্ষমহলের দাবি, সমস্ত নথি ঠিকঠাক জমা দিতে না পারলে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

পুনরায় আলোচনায় (Hospital License Cancelled)
এ ঘটনার আগে আরেকটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল স্বাস্থ্য কমিশন। সূত্রের খবর, কলকাতার কসবার জেনেসিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বহুদিন ধরেই জমা হচ্ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এক রোগীর পরিবার অভিযোগ করে, চিকিৎসায় দেরি, ভুল চিকিৎসা, বাড়তি বিলের চাপ, এবং রোগী পরিবারকে বারবার হয়রানি। স্বাস্থ্য কমিশন ওই অভিযোগের শুনানি ডেকে পাঠালেও, সূত্রের কথায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে কেউ হাজিরই হননি। এরপরই কমিশন ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে। কিন্তু অভিযোগ, ১১ মাস কেটে গেলেও এখনও সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। ফলে কমিশন নির্দেশ দেয় জেনেসিস হাসপাতালের লাইসেন্স আপাতত বাতিল, নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ, তবে পুরোনো রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবে। সূত্র বলছে, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নির্দেশ অমান্য করা এবং শুনানিতে সহযোগিতা না করাই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রধান কারণ।
হাসপাতালে কেন এত জরুরি? (Hospital License Cancelled)
অভিজ্ঞ মহলের দাবি, হাসপাতাল মানেই বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থের ভরপুর পরিবেশ অক্সিজেন সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, কেমিক্যাল ইত্যাদি। যেকোনও মুহূর্তে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হতে পারে। সূত্রের বক্তব্য অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি হাসপাতাল এখনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে “দ্বিতীয় সারির” বিষয় মনে করে। আর সেই কারণেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

কেন দেরি ছাড়পত্রে? (Hospital License Cancelled)
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর থেকে ছাড়পত্র পেতে তাদের নথিপত্র বারবার “ফেরত পাঠানো” হয়েছে। কখনও নকশার সমস্যা, কখনও যন্ত্রপাতির সার্টিফিকেশন বিভিন্ন অজুহাতে সময় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মান নিরীক্ষা না হওয়া এবং অ্যালার্ম সিস্টেম অকেজো থাকাই দেরির মূল কারণ।
হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল (Hospital License Cancelled)
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উপেক্ষা, চিকিৎসায় গাফিলতি, আর্থিক অসদাচরণ, এবং প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করা, এই সমস্ত বিষয় একত্রিত হওয়ার পরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। সূত্রের মন্তব্য “হাসপাতাল মানে মানুষের জীবন। নিরাপত্তায় গাফিলতি হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিপদ ঘটতে পারে।”
আরও পড়ুন: Pakistan: জঙ্গিবাদের আধুনিক সংস্করণ: ভারতবিরোধী নয়া পাক মডিউল
হাসপাতাল কতগুলি এখনও চলছে?
আরতি ও জেনেসিস হাসপাতালের ঘটনা সামনে আসতেই স্বাস্থ্য মহলের বড় প্রশ্ন, আরও কত হাসপাতাল আছে যাদের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্স নেই? কত ক্লিনিক চলছে কোনো পরিকাঠামো ছাড়াই? রোগীর জীবনের চেয়ে কি লাভটাই বড় হয়ে উঠছে? সূত্রের দাবি দ্রুতই রাজ্যজুড়ে সব বেসরকারি হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হবে।



