Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা, তখনই নতুন করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। ভোটের দিন থেকে গণনার দিন পর্যন্ত বারবার ভোট লুঠের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এবার ফলাফলের প্রবণতা সামনে আসতেই ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার কথা জানালেন এই নেতা। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রাজনীতির ময়দান থেকে সত্যিই সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন হুমায়ুন?
ভোটের দিন থেকেই অভিযোগের সুর (Humayun Kabir)
উপনির্বাচনের দিন সকাল থেকেই রেজিনগরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন হুমায়ুন কবীর। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে তিনি সরব হন। এমনকী, তাঁকে আটকও করা হয় বলে তাঁর দাবি। ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই তাঁর বক্তব্য ও আচরণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জল্পনা। কখনও বিধানসভায় না যাওয়ার কথা, কখনও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইঙ্গিত, আবার কখনও রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে।
গণনার দিনেও পুলিশের বিরুদ্ধে সরব (Humayun Kabir)
ফলাফল ঘোষণার দিনেও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি হুমায়ুন। গণনাকেন্দ্রের আশপাশে তাঁকে তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। কেন গণনাকেন্দ্রে যাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বক্তব্য, পুলিশ ভোট লুঠ করছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ভয় দেখিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে তাঁর তোলা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ফলাফলের প্রবণতায় বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ (Humayun Kabir)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি পেয়েছে ১২ হাজার ৭০৭ ভোট। অন্যদিকে, শাসকদলের প্রাপ্ত ভোট ৩৫ হাজার ৮৯৬। এই ব্যবধানের প্রবণতা সামনে আসতেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, “ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাব। এখন আমার কাজ বাবরি মসজিদটা করা আর অধীর চৌধুরীকে ভোটে হারানো।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচনী ফলাফলের আবহেও বাবরি মসজিদ নির্মাণ এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তবে দুবাই যাওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনে কি এবার ছেদ? (Humayun Kabir)
কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, রাজনৈতিক দলবদলের একাধিক অধ্যায় পেরিয়ে নতুন দল গড়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা নাটকীয় মোড়। এবার উপনির্বাচনের ফলাফল এবং তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Nandigram Election: গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, শুরুতেই পদ্মের দাপট
রাজনীতি ছাড়বেন, নাকি নতুন লড়াই?
একদিকে ভোট লুঠের অভিযোগ, অন্যদিকে দুবাই যাওয়ার ঘোষণা—হুমায়ুন কবীরের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয়। তবে তাঁর বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। তিনি কি সত্যিই দেশ ছেড়ে দুবাই যাবেন, নাকি এই মন্তব্যের পরেও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় থাকবেন? উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।



